এখনো অজানা সুন্দরবন, অজানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন – অমল নায়েক

এখনো অজানা সুন্দরবন, অজানা তথ্য সংগ্রহ করেছেন - অমল নায়েক

এখনো অজানা সুন্দরবন

অমল নায়েক

১৭৬৪’তে তৈরী হয় মানচিত্র। ১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম বনকর্তা ছিলেন এম ইউ গ্রীণ (৯ মে ১৮৮৪ থেকে ১২ মে ১৯৪৬)। মুখ্য কার্যালয় ছিল বাংলাদেশের খুলনায়।

ছবি – প্রিয়াঙ্কা বি

সুন্দরবনের জন্মকথা

প্রায় দু’হাজার বছর আগে (মধ্যযুগে) এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সুন্দরবন সৃষ্ট হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। এক সময় এই অঞ্চল ছিল সমুদ্র গর্ভে। ভূমিকম্পের পর উত্থান ঘটেছে। অতীতেও সুন্দরবনের জঙ্গল ও তার আশপাশে জনবসতি ছিল। দুই ২৪পরগনা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া প্রত্নত্তত্ব থেকে জৈন ও বৌদ্ধবিহার, বৌদ্ধমুদ্রা, ভগ্নমঠ, স্তূপের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। মিলেছে কুষাণ, পাল, সেন, গুপ্ত, শুঙ্গ, মৌর্য যুগের নিদর্শন। বিজয় সেন, লক্ষণ সেন, পাঠান ও মোগল, বারোভূঁইয়া, ইংরাজরা শাসন করেছে সুন্দরবন। পরে সম্রাট আকবরের সুবেদার শায়েস্তা খাঁ’র আমলে আরাকান দেশ থেকে এসে পর্তুগীজ (১৬২৮-১৬৩৩) ও মগ (১৭১৮-১৮০০) জলদস্যুরা এই বনবাসীদের উপর অত্যাচার করেছে। সীমাহীন অত্যাচারে এক সময় জনশূন্য হয়ে পড়ে ছিল সুন্দরবন। আবার বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও ধ্বংস হয় এখানকার জনপদ। পরবর্তী সময়ে ইংরাজরা সুন্দরবনে রাজত্ব শুরু করলে (১৭৫৭) পুনরায় নতুন করে জনবসতি গড়ে ওঠে। প্রথমদিকে সুন্দরবনের কোনও সীমানা ছিল না। পরে ইউরোপীয়রা বন কেটে চাষযোগ্য করে স্থানীয় জমিদারদের মধ্যে ইজারা দিতে থাকে। ১৬৫৭ সালে শাহসুজা এই বনাঞ্চল থেকে রাজস্ব সংগ্রহের জন্য সরকারের অধীনে আনেন। ঊইলিয়ম ড্যাম্পিয়র ও লে হজেস এবং যশোরের তৎকালীন জজ ও কালেক্টর টীলম্যান হেঙ্কেল উদ্যোগী হয়ে সুন্দরবনের জমি জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করেন (১৮৩০-১৮৮৩)। ১৭৬৪’তে তৈরী হয় মানচিত্র।

Sundarban Map & History
সুন্দরবন ইতিহাস ও মানচিত্র                                                   

জমি ইজারা দেওয়ার পর বাকি জঙ্গল রক্ষার কাজের সুবিধার জন্য বন দফতর গঠন করা হয়। ১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথম বনকর্তা ছিলেন এম ইউ গ্রীণ (৯ মে ১৮৮৪ থেকে ১২ মে ১৯৪৬)। মুখ্য কার্যালয় ছিল বাংলাদেশের খুলনায়।

সুন্দরবনের নামকরণ

সুন্দরবনের নামকরণ নিয়ে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। যেমন –

১) সমুদ্রের পাশের বন বলেই সমুন্দর-বন সেখান থেকে উচ্চারণ ভেদে সুন্দরবন।

২) এই অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে সুন্দরী গাছের আধিক্য বেশী, সেখান থেকেই এই বন ও অঞ্চলের নাম সুন্দরবন।

৩) ইংরাজ আমলে বিদেশী পর্যটকরা বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছপালা দেখে আক্ষরিক অর্থে ইংরেজীতে ‘জাঙ্গল অফ সান্দ্রী’ (Jungle of ‘Sundry’) নাম দিয়েছিলেন। আঞ্চলিক উচ্চারনে ‘সান্দ্রী’ থেকে সুন্দ্রী অবশেষে সহজে সুন্দরীবন এবং পরে সুন্দরবন নাম হয়েছে বলে ব্যাখ্যা করা হয়।

৪) বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকার বাখরগঞ্জ-এ প্রবাহিত ‘সুগন্ধা’ নদীর নাম থেকেও সুন্দরবন নামের উৎপত্তি বলে অনেকে মনে করেন।


এক নজরে ভারতীয় সুন্দরবন

আয়তন

১৮০০ শতকের দিকে অবিভক্ত সুন্দরবনের আয়তন ছিল ১৬,৭০০ বর্গ কিমি। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০,৮১৩ বর্গ কিমিতে। ১৯৪৭ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণের পর মোট আয়তনের ৬২ শতাংশ চলে যায় বাংলাদেশের অংশে, যথাক্রমে চাঁদপাই, শরণখোলা, খুলনাসাতক্ষীরা। বাকি ৩৮ শতাংশ যুক্ত হয় ভারতের সঙ্গে, যেখানে নামখানা ও বসিরহাট রেঞ্জ অন্তর্ভুক্ত।  তৎকালিন সময় ভারতের প্রথম বনকর্তা নিযুক্ত ছিলেন শ্রীধর চক্রবর্তী (১৮৯৬)। বর্তমানে ভারতীয় সুন্দরবনে বন রয়েছে ৪,৭২৬ বর্গ কিমি। এরমধ্যে ৫৫ শতাংশ বন। বাকি এলাকায় মানুষের বাস। 

অভ্য়রাণ্য

বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য গঠিত হয়েছে চারটি অভয়রাণ্য। সেগুলি হল – সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান, সজনেখালি অভয়রাণ্য, লোথিয়ান দ্বীপ এবং হ্যালিডে দ্বীপ অভয়রাণ্য

প্রশাসনিক কাজ

বন পরিচালনার জন্য ব্যাঘ্র প্রকল্প এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা বন বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।

জনবসতি

প্রাক-মোগল আমল থেকে সুন্দরবনে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল মানুষের বাস। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, বারবার মগ ও পর্তুগীজদের হামলায় ধ্বংস হয়েছিল এই বনাঞ্চল। ইংরাজ আক্রমণের পর আবার নতুন করে জনবসতি গড়ে উঠেছিল। বাখরগঞ্জ, খুলনা ও দুই ২৪ পরগণার দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অংশে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ থেকে তার বহু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব ২০০ অব্দের কাছাকাছি বহু জনগোষ্ঠীর আগমন ঘটে ছিল সুন্দরবনে। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতক থেকে বৌদ্ধধর্মের মূল বিস্তার ঘটেছিল। সেন আমল থেকেই এই জাতির একটি গোষ্ঠীর প্রবল চাপে জন্ম হয়েছিল বিভিন্ন জাতির। বর্তমানে এখানে পৌণ্ড্র, ক্ষত্রিয়, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, মুন্ডা, সাঁওতাল, ওঁরাও, দাস, দেবদাসী জাতি মানুষের বাস।

১৮০০ শতকে রাঁচি, সিংভূম, মানভূম, পালামৌ, ছাপরা, হাজারিবাগ থেকে মুন্ডাদের শ্রমিকের কাজ এবং জঙ্গল হাসিল করাতে সুন্দরবনে এনে ক্রীতদাস করে রাখা হতো। তৎকালিন মগ জলদস্যুদের অনেকেই বৌদ্ধ ধর্মাবলাম্বী ছিল। সুন্দরবন ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় বেশকিছু মগ-পরিবার সাগরদ্বীপ ও ক্যানিং, মগরাহাট, জয়নগর-সহ আশপাশ এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল। আজও রয়ে গিয়েছে। পৌন্ড্র জাতিই ছিল মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ৪মে (২১শে বৈশাখ) বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে আজও দিনটি শ্রদ্ধা ও পবিত্রতার সঙ্গে সুন্দরবনে পালিত হয়।

ভারতীয় সুন্দরবনের মোট দ্বীপের সংখ্যা

২০১১ সালের কেন্দ্রীয় সরকারের সমীক্ষা অনুসারে ভারতীয় সুন্দরবনের মোট দ্বীপের সংখ্যা ১০২ টি। এর মধ্যে মাত্র ৫৪ টি দ্বীপে মানুষের বসবাস। ৫৪ টি দ্বীপকে ১৯ টি ব্লকে প্রশাসনিক বিভাগ করা হয়েছে, লোকসংখ্যা ৩৭ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩৫৬ জন। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা সাগরদ্বীপে, ৫০ লক্ষেরও বেশি। ৫৪ টি দ্বীপে আছে ৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত, সদস্য সংখ্যা ১,৩৩,৩৬৫ জন। বাকি ৪৮ টি দ্বীপ নিয়ে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও বন্যপ্রাণী।

সবচেয়ে বেশি দ্বীপ রয়েছে প্রাথরপ্রতিমা ব্লকে, মোট ১৩ টি; গোসাবা ব্লকে ৯ টি, নামখানা ব্লকে ৫ টি, সন্দেশখালি ব্লকে ৬ টি আর হাড়োয়া ব্লকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে ৫ টি দ্বীপ।  

Sundarban Map
ভারতীয় সুন্দরবন মানচিত্র

জন্মের হার

২০০১ সালের সমীক্ষা অনুসারে ১০০০ জন পুরুষ প্রতি ৯৩৩ কন কন্যা সন্তান জন্মাচ্ছে।

জাতি

তফশিলি জাতি ৬৫%, উপজাতি ৩৮%। এছাড়াও পৌণ্ড্র, ক্ষত্রিয়, দেবদাসী, দাস, মুন্ডা ও ওঁরাও জাতির বসবাস আছে।

জীবিকা

কৃষি ও মাছ চাষ। এখানকার উল্লেখযোগ্য পেশা বন্যমধু সংগ্রহ, যা বিদেশে রপ্তানী হয়। নদী ও সমুদ্র থেকে মাছ সংগ্রহ করা, নদীর কাঁকড়া সংগ্রহ এখানকার অধিক সংখক মানুষের প্রধান পেশা।

জেলা ভাগ

এ পর্যন্ত ২৪ পরগণা ৩ বার ভাগাভাগি হয়েছিল। যথাক্রমে ১৮১৪, ১৮৩৪ ও ১৯৮৬ র ১লা মার্চ।

সুন্দরবন নতুন জেলা

২০১৫ সালের ২৭শে নভেম্বর সুন্দরবনকে ভেঙে বসিরহাট এবং সুন্দরবন নামে দুটি পৃথক জেলা করার কথা ঘোষিত হয়েছে। সুন্দরবন জেলার প্রধান কার্যালয় ক্যানিং।

ব্লক গুলি

১৯ টি ব্লক নিয়ে গঠিত সুন্দরবন। উত্তর ২৪ পরগণায় ৬ টি ব্লক, যথাক্রমে হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি-১ ও ২, হাড়োয়া, মিনাখাঁ এবং হাসনাবাদ। সবই জনবসতি এলাকা, এখানে কোন বন নেই। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ১৩ টি ব্লক, যথাক্রমে ক্যানিং-১ ও ২, বাসন্তী, গোসাবা, জ্যংর-১ ও ২, কুলতলি, মথুরাপুর-১ ও ২, কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা এবং সাগরদ্বীপ।

সুন্দরবন ছাড়ার প্রবণতা

গ্রাম-জঙ্গল ছেড়ে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা মানুষের আদি মনঃস্তত্ত্ব। এই প্রবণতা সুন্দরবনেও আছে বরাবর। বহু যুবক তার পরিবার নিয়ে জীবিকার তাগিদে পরিবার নিয়ে ভিন্ন রাজ্যে চলে গিয়েছেন। ৫৫% মানুষ সুন্দরবন ছেড়ে উচ্চশিক্ষা ও উচ্চমানের জীবিকার জন্য কলকাতা শহর ও কলকাতা শহরতলি এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। এরপর পেছনে অবশ্যই কারণ কৃষি-শিল্পের যথাযথ উন্নতি না হওয়া। তবে ইদানিং পর্যটন শিল্প উন্নতিতে সরকার মনযোগী হলেও, তার গতি ধীর। 

নারী পাচারের স্বর্গরাজ্য

দারীদ্রতার সুযোগ নিয়ে শিশু, নারী পাচারকারীরা সক্রিয় এখানে বাড়াবরই। গরীব পরিবারের মেয়েদের পরিচারিকার কাজে শহরে পাঠানো এখানে একেবারেই নগণ্য ব্যাপার। এই সুযোগ নারী পাচারকারীরা অবাধে ব্যাবহার করছে।

নদী

রায়মঙ্গল, আদিগঙ্গা, হরিণভাঙ্গা, গোয়াসাবা, মাতলা, বিদ্যাধরী, ঝিল, করতাল, ঠাকুরান, সপ্তমুখী, মড়িগঙ্গা, গাবতলা, মৃদঙ্গভাঙ্গা, জগদ্দল, আজমলমারি, ঢুলিভাসানি, চুলকাটি, বেলেডানা, পেইলি নদী, হেড়োভাঙ্গা, মণি নদী, বেনিফেলী, হুগলী।

গাছগাছালি

সাধারণতঃ ২৫ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ আছে এখানে।

বন ও বন্যপ্রাণী

বাংলার রাজকীয় বাঘ যা পৃথিবী বিখ্যাত। এছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত চিত্রা হরিণ, সজারু, বনবিড়াল, মেছো বিড়াল, লাল বান্দর, দেশি বন শুকর, ভোঁদড়, গুইসাপ, লোনা জলের কুমির, জলপাইরঙা সাগর কাছিম, কেটো কচ্ছপ, হাঙর, চিংড়ি, মাছ ও সাপ সহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। অসংখ্য সামুদ্রিক ভিন্ন প্রজাতির মাছ, রাজহাঁসের মতো বড়-বড় গাড়াপোলা, মদনটাক, বাঁশকুয়াল, চিল, কুল্যা, ঝাঁকড়, শামখোল, মাণিক, গয়াল, করমকুলি, বনহাঁস, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, টিয়া, হড়েল, শ্বেতকাক, দোয়েল, কাস্তেচোরা, ফিঙে, দুধরাজ, রক্তরাজ,ভীমরাজ, বিলবাচ্চু, রামশালিক, হাট্টিমাটিম ইত্যাদি নানান ধরণের পাখি।


ভ্রমণ ছক

১) সকাল সন্ধ্যা

কলকাতা থেকে গদখালী জেটিঘাট পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪ ঘন্টা (৮:৩০-১২:৩০)। গদ খালি জেটি ঘাট থেকে লঞ্চ বা ভুটভুটিতে চেপে জঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। হোগল, গোমর, দুর্গাদোয়ানি, গোমতী নদী পেরিয়ে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে সজনেখালি পর্যটন কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া যাবে। জলযানে যাওয়ার সময় নদীবক্ষেই খাওয়া-দাওয়া এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এরপর বিকেলে সজনেখালি পর্যটনকেন্দ্রের ওয়াচ টাওয়ার (watchtower) থেকে জঙ্গল দর্শন, ম্যানগ্রোভ ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার (mangrove interpretation centre), সুধন্যখালির ওয়াচ টাওয়ার, জঙ্গল দেখে আবার একই পথে গদখালি ফিরে আসা যায়।

২) ১ রাত ও ২ দিন

সজনেখালি পর্যটনকেন্দ্র থেকে সুধন্যখালি পর্যটনকেন্দ্র একঘন্টার দূরত্ব। ভায়া সুধন্যখালি খাল, বনবিবি ভারানি, পিরখালি খাল, চোরাগাজিখালি খাল হয়ে দোবাঁকি। এই যাত্রাপথ ৩ ঘন্টা সময় ধরে রাখুন। সেখান থেকে ন’বাঁকি নদী, বনবিবি ভারানি খাল, পঞ্চমুখানি নদী, নেতিধোপানী পর্যটন কেন্দ্র এই যাত্রাপথ ১.৫ ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা। সেখান থেকে বিদ্যা, মাতলা, হেড়োভাঙ্গা নদী পেরিয়ে ঝড়খালি পর্যটনকেন্দ্র ৪৫ মিনিটের পথ। সেখানে বা পাখিরালয় গিয়ে রাত্রিযাপন অথবা গদখালিও ফিরে আসতে পারেন।

৩) ২ রাত ও ৩ দিন

সজনেখালি থেকে বুড়িরডাবরি ৬ ঘন্টার পথ। গোমতী নদী দিয়ে সড়কখালি খাল হয়ে রায়মঙ্গল নদী, কাটোয়াঝারি খাল পেরিয়ে বড় নদীর খাঁড়ির মধ্যে দিয়ে হেঁতাল, বাইনের জঙ্গল দিয়ে বুড়িরডাবরি।

ক) বুড়িরডাবরি থেকে রায়মঙ্গল, ঝিঙেখালি দেড় ঘন্টার রাস্তা। জঙ্গলে রাত্রিযাপন করা যায় অথবা গদখালী ফেরা যেতে পারে। ঐ একই পথে পড়বে কুমিরমারি ও মরিচঝাঁপি।

খ) বুড়িরডাবরি থেকে রায়মঙ্গল নদী হয়ে হরিণভাঙা বনবিভাগ শিবির(forest camp) যেতে ১ ঘন্টা লাগে। রাত্রিযাপনের জন্য সজনেখালি, পাখিরালয় বা দয়াপুর যাওয়া যেতে পারে। পরের দিন বাড়ি ফিরতে গদখালির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। পড়ে সেখান থেকে সড়ক পথে কলকাতা বা অন্যত্র যাওয়ার সুব্যাবস্থা আছে।

গ) সজনেখালি থেকে বনিক্যাম্প যেতে  তিন ঘণ্টার পথ। সজনেখালি থেকে বিদ্যা, মাতলা নদী, হেরোভাঙা, ঢুলিভাসানি নদী হয়ে কলসদ্বীপ যাত্রা। সেখানে বনের মধ্যে রোমাঞ্চকর রাত্রিযাপন অথবা গদখালি ফিরে আসা যেতে পারে। কলসদ্বীপ থেকে পরের দিন ঢুলিভাসানি, সুন্দরকাটি নদী ধরে বনিক্যাম্প হয়ে গদখালি ফেরা যাবে। এই রাস্তাটুকু ৫ ঘন্টার কিছু বেশী লেগে যাবে। ভগবৎপুর, লোথিয়ান দ্বীপ, হ্যালিডে দ্বীপ, বনিক্যাম্প, কলসদ্বীপ এই জায়গাগুলো অবশ্য দর্শনীয়।

** ড়খালি থেকে বনিক্যাম্প যাওয়া যায়, সময় লাগে ৫ ঘণ্টা।
** রাইয়দিঘি থেকে মনি নদী যাওয়া সহজ।
** কাকদ্বীপ থেকে সপ্তমুখী নদী অনেক কাছে হয়। রামগঙ্গাও বেশ কাছে।

সুন্দরবনের গ্রামে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা নিতে বা বনের ভিতরের অভিজ্ঞতার কথা জানতে মৎস্যজীবী, মধু সংগ্রহকারীদের সঙ্গে দেখা করা যায়। বনকর্মী বা ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ব্যবস্থা হয়ে যায়।

 [ক্রমশঃ]

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *