নাম ইতিহাস – মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব

ভারতের জাতীয় ক্লাব মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। ভারতের সফলতমদলগুলির একটি অন্যতম। এই দলের ইতিহাস , বর্তমান, জনপ্রিয়তা সবার জানা তাই সে বিষয়ে এখানে নতুন করে কিছু সংযোজন করার নেই। মজার বিষয়, মোহনবাগান অনুরাগীদের কি জানা আছে এই মোহনবাগান নাম টি কি ভাবে হয়েছিল ?

mohonbagan

মোহনবাগান ভিলার নাম থেকে মোহনবাগান স্পোর্টিং ক্লাবের নাম হয়েছে। তাহলে এবার জানতে হয় মোহনবাগান ভিলার ইতিহাস এবং কি ভাবে একটি স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে গেল নাম টা।

কলকাতার একটি ঐতিয্যপূর্ণ চোখ – ধাঁধানো বিরাট মর্মর প্রাসাদ ছিল মোহনবাগান ভিলা। আগাগোড়া সাদা মার্বল পাথরের তৈরি। চারিদিকে প্রকান্ড মাঠ। তার ভেতর কয়েকটি পুকুর। ভিলার চারদিকে ছিল উঁচু প্রাচীর। এই ভিলার অস্তিত্ব এখন আর নেই। ভিলাটির উত্তর সীমা ছিল বর্তমান ফড়িয়াপুকুর স্ট্রিট, পূর্ব সীমা আপার সার্কুলার রোড, পশ্চিম সীমা বর্তমান কীর্তি মিত্র লেন এবং দক্ষিণ সীমা বর্তমান মোহনবাগান লেন। এই পরিধি থেকে বুঝতে পারা যাবে মোহনবাগান ভিলা কত বড় ছিল।

এই ভিলা তৈরী করেছিলেন কীর্তি মিত্র। প্রথম যুগে – যে ক’জন বাঙালী নতুন পাটের ব্যাবসা করে বড়লোক হন কীর্তি মিত্র তাঁদের মধ্যে একজন। দুঃখের কথা, কীর্তি মিত্র এই নতুন তৈরি বাড়িতে গৃহপ্রবেশ আনুষ্ঠান করার অল্পদিন পরেই মারা যান। ভিলার মালিক হন তাঁর একমাত্র পুত্র প্রিয়নাথ মিত্র। ইঁনি পি মিত্র বলেই বেশি পরিচিত ছিলেন।

প্রাসাদপম মোহনবাগান বাড়ির বিস্তীর্ণ মাঠেই মোহনবাগান ক্লাবের খেলা আরম্ভ হয়েছিল। মাঠের যে দিক টায় খেলা হত সে দিকে ছিল ফড়িয়াপুকুর স্ট্রিট ও আপার সার্কুলার রোডের মোড়। বাড়ির ভেতর অনেকগুলি মার্বেল পাথরের উঠোন। মোহনবাগান ক্লাবের সেইসব সদস্য যাঁরা স্কেটিং করতে ভালবাসতেন, তাঁরা সেইসব উঠোনে স্কেটিং করতেন। কিন্তু অতবড় বাড়ির ভেতরে ঢুকতে তাঁরা সাহস করতেন না হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে, এতো বড় ছিল সেই বাড়ি।

মোহনবাগান ভিলার মাঠে মোহনবাগান ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৮৯ সালে। প্রিয়নাথ মিত্রই ছিলেন এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক। তাঁর সঙ্গে আর এক জন ছিলেন, তিনি ব্যারিস্টার এইচ ডি (হরিদাস) বস। পি মিত্র ক্লাবের এগারো জন খেলোয়াড়ের জন্য র‍্যাংকিন-এর বাড়ি থেকে পোশাক তৈরি করিয়ে দেন।

পি মিত্র বাড়ি বিক্রি করতে চান। তখন নিমাই বোস, ভূপেন বোস ও আর -একজন মিলে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে মোহনবাগান ভিলা কিনে নেন ১৮৯০ সালে। সেই সালেই কলকাতা টিভোলি পার্কে ‘কংগ্রেস’ হয়। বাংলার বাইরে থেকে যে সব কংগ্রেস প্রতিনিধি এসেছিলেন তাঁদের থাকতে দেওয়া হয়েছিল মোহনবাগান ভিলায়। পরের বছর ১৮৯১ সালে এই বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। সেই জায়গায় এখন অনেক আবাসিক বাড়ি হয়েছে।

মোহনবাগান ভিলার মাঠের পর মোহনবাগান ক্লাব খেলত শ্যামপুকুরের এক ছোট মাঠে – নাম ধোপাপুকুরের মাঠ। কেউ কেউ বলেছেন মোহনবাগান ভিলা ভাঙ্গা হয়ে যাওয়ার পর মোহনবাগান ক্লাব শ্যাম স্কোয়ারে ১০ বছর খেলেছিল। সে কথা ঠিক নয়। কারণ তখনও শ্যাম স্কোয়ার তৈরি হয়নি। সেখানে তখন কলুপুকুর ছিল। ১৯০২-০৩ সালে প্রধানত আনন্দকৃষ্ণ বসুর ভাই যগেনন্দ্রকৃষ্ণ বসুর চেষ্টায় শ্যাম স্কোয়ার তৈরি হয়। আবার কেউ কেউ বলেছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয় ভূপেন বোসের বাড়িতে। সেটিও যে ঠিক নয় তা ক্লাবের নামই প্রমাণ করে।

 

তথ্যসূত্র –

কলিকাতা দর্পণ

রাধারমণ মিত্র

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *