ফাইনানসিয়াল ডিটেকটিভ – Financial Detective – D R Bhattyachariya

Restaurant Bill

রেস্তরাঁর বিল নিয়ে জানুন কিছু গড়মিল

দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য

লোকটাকে দেখেই কেমন যেন অস্বস্তি হয়। থ্যাবড়ানো মুখটায় নাকের ফুটো দুটো জেগে আছে শুধু। গালের হনু উঁচু। সরু সরু হাতগুলো অহেতুক ঝুলে আছে দুদিকে। বিচ্ছিরি একটা ভুঁড়ি পেট ঠেলে বেরিয়ে এসেছে। তারই সঙ্গে কোঁচকানো বাবরি চুল, আর কান এঁটো করা একটা হাসি। বাপরে! কী কম্বিনেশন! তিস্তা চোখ নামিয়ে নেয়। কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে যায়। ভদ্রলোককে অপ্রভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শেষে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় বিতানকেই। তিস্তার দিকে এগিয়ে এসে গলা কিছুটা তুলে বলে, ‘দিদিভাই, উনি দেখা করতে এসেছেন’।

এবার সামনে তাকাতে বাধ্য হয় তিস্তা। তার হবু মক্কেলের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ, বলুন’?

–হেঁ হেঁ, একটু বসি আগে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে বেজায় হাঁফ ধরে গ্যেছে, বুঝলেন। ম্যাডাম, গঙ্গার ধারে আমার বাইক-টা রেখে এসেছি। চুরিচামারি কিছু হয়ে যাবেনা তো?  অবশ্য, ওই মূর্তিটূর্তি গড়ে কুমোরগুলো, ওদের বলে এসেছি। চায়ের দোকানটাতেও। ওরাই তো আপনার চেম্বারটা দেখিয়ে দিল। বাব্বা, তিস্তা চৌধুরী। এক ডাকে সবাই চেনে দেখছি…

কথার ছিরি দেখো! সাতপাঁচ বলেই চলে লোকটা। আর একদৃষ্টে চেয়ে আছে ওর দিকে। আরে, পলক তো ফেল। এভাবে তাকালে গায়ে হলকা এসে লাগে। কী মুশকিল হল। বিহান আবার এগিয়ে আসে, ‘আপনার কী জানার আছে, বলুন ম্যাডামকে’।

–আরে হ্যাঁ, ভুলেই তো গিয়েছিলাম, আমার একটা ব্যবসা আছে, বুঝলেন। তাই নিয়ে একটু কথা বলতে চাই আপনার সাথে।

এইসময় একটা গুঞ্জন ওঠে অফিসের ওই দিকটায়। গুঞ্জন নয়, কানাকানি। বিতানরা যে দিকে বসে, সেদিক থেকে। অফিসটা লম্বায় ফুট-পঞ্চাশেক হবে। ঢুকেই ডানদিকে আর বাঁদিকে ফাইল রাখার জায়গা। তার মধ্যেই একটা লুকোনো কাবার্ড। একটা ফ্রিজিডেয়ার। তারপরে ডান দিকে অলোকবাবু আর তীর্থ-র বসবার জায়গা। বাঁ দিকে পরপর সঞ্জয়, বিতান, ঐন্দ্রিলা আর উজ্জ্বলের বসার জায়গা। ওদের বসার জায়গাটা পার হলেই কাচের একটা পার্টিশনে তিস্তার চেম্বার। অনেকে গোপন আলোচনা করতে আসেন। তখন দরজাটা বন্ধ করে তিস্তার চেম্বারটাকে আলাদা করে নিতে হয়। অন্যসময় ঘর দুটোকে টানা একটা ঘরের মতোই লাগে। ঐন্দ্রিলাই বিতানের কানের কাছে মুখ নিয়ে কিছু একটা

বলছে। বিতান এবার পায়ে পায়ে এগিয়ে এসে তিস্তার টেবিলে রাখা একটা ছোটো কাঠের কারুকাজ করা বোর্ডের মুখ ঘুরিয়ে দেয় ভদ্রলোকের দিকে। তাতে লেখা আছে ‘ কনসালটেশন চার্জেস অ্যাপ্লিকেবল’। আসলে দিদিভাই মুখ ফুটে বলতে পারে না বলে অনেকে এসে অনেকটা সময় নষ্ট করে দিয়ে যায় দিদিভাইয়ের।নানান পরামর্শ করে হাসতে হাসতে ফিরে যায়। তাই সজাগ থাকে ওরা। আনকোরা কেউ এলে ঐন্দ্রিলা বা বিতান, কেউ একজন ব্যাপারটা মনে করাবেই। আর অন্য একজন এসে এই কাজটা করবে। তিস্তা লজ্জা পায় ঠিকই কিন্তু ওদের ভাবনাটাও কিছু ভুল নয়। যাই হোক গোটা পর্বটায় বেশ মজাই লাগে তিস্তার।

–বেশ বলুন। তিস্তা ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বলে।

–আজ্ঞে, আমি একটা দোকান চালাই। ‘ব্লু লিলি’। চা কফি কেক অমলেট-টমলেট পাওয়া যায় আর কী। মাঝে মাঝেই ঝামেলা লাগে খদ্দেরের সঙ্গে। আজ্ঞে, ওই বিল নিয়ে। ব্যাটাচ্ছেলেরা এতো ত্যাঁদড়, একটা টাকা পকেট থেকে বের করতে হলেই মুচ্ছো যায়।

–ব্লু লিলি! বাব্বা! কল্পনার বেশ জোর আছে তো! তিস্তা ভাবে।

–আর বলবেন না মশায়। কম্পিটিটরকে জব্দ করতে নামটা স্রেফ হাইজ্যাক করে নিয়েছি। পাশেই একটা নতুন রেস্টুরেন্ট গজিয়েছে, বুঝলেন। – ‘রেডচিলি’। আমিও অমনি ‘লোকনাথ ফাস্টফুড কর্নার’ রাতারাতি বদলে ‘ব্লু লিলি’। কী করবি কর। বলে ভদ্রলোক তার কম্পিটিটরের উদ্দেশে ডান হাতটা মুঠো পাকিয়ে ওপরে ছুঁড়ে দেন। অফিসের ওদিকে আবার একটা কানাকানি চোখের কোণ দিয়ে খেয়াল করে তিস্তা। খানিকটা অনুমান করতেও পারে, কেন। লোকটা আসলে ডাহা মিথ্যে বলছে।

–ভেবে বলুন, চা-কফি-কেক-টেক পাওয়া যায়, না কি ফ্রায়েড-রাইস বিরিয়ানি চিলি চিকেন, এইসব পাওয়া যায়? স্নাক্সের দোকান? না কি রেস্তরাঁ ?

–ওই একই হল। অম্লানবদনে বলেন ভদ্রলোক।

–একই নয়। আলাদা। একদম আলাদা। যাক গে, বিক্রি কেমন? ব্যালান্স শিট, প্রফিট অ্যান্ড লস, কিছু এনেছেন না কি, সঙ্গে?

Restaurant Balance Sheet
Restaurant Balance Sheet

–এনেছি মানে? না আনলে বুঝবেন কী করে ? – বলে, উনি মস্ত এক খড়মড় আওয়াজ তুলে ব্যাগ থেকে কাগজপত্র বের করতে থাকেন। তারপর আবার শুরু করেন, বিক্রি, এই ধরুন, ৪০ থেকে ৫০ লাখের মধ্যে। তা ম্যাডাম, কী কী ট্যাক্স দিতে হবে আমাকে? ট্যাক্স দিতে দিতে তো ফতুর হবার জোগাড়।  

— তিস্তা এক ঝলক কাগজগুলোর ওপর চোখ বুলিয়ে নেয়। তারপর ভুরু কুঁচকে তাকায় তার মক্কেলের দিকে, আপনি তো জানেনই না কী ট্যাক্স দিতে হবে, ফতুর হলেন কীভাবে?

–দিই নি ম্যাডাম, দিতে কতক্ষণ? মানে, দিতে যদি হয়ই…

দুম করে জানতে চায় তিস্তা, ‘আপনার রেস্তরাঁটা কি এয়ার কনডিশন্‌ড নাকি পাখাটাখা দিয়ে কাজ চালিয়ে নেন’?

–কী যে বলেন! রুমালে মুখ মুছতে মুছতে হাড় চিবোলে ফিঁয়াসের সামনে মান-ইজ্জত থাকবে? তবে হ্যাঁ, ওই ড্রাইভার-ট্রাইভারেরা গাড়ি থামিয়ে খাওয়াদাওয়া করে নীচের তলাতে। ওখানে ফ্যান চলে। ছেলেকে বলেছি, ওটা তুই চালা। তুই হিসেব-পত্র বুঝে নে সব। তোর লাভ-পত্তর সব তোরই থাকবে। আমি একটা পয়সাতেও হাত দেব না।

–তাহলে আপনি বলছেন এটা একটা এয়ার কনডিশন্‌ড রেস্তরাঁ? দ্রুত প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় তিস্তা।

আধ-হাত জিভ বের করেন ভদ্রলোক। হেঁ হেঁ করে ঘাড় দুলিয়ে হাসতে থাকেন। তারপর প্রসঙ্গ পালটে বলেন, আচ্ছা ম্যাডাম, একটা কথা নির্ভয়ে জিগেস করতে পারি?

–সে কী! নিশ্চয়ই। ভয় পাবার কী আছে? বলুন না কী বলবেন?

–‘ঢোকার সময়ে দেখলাম আপনার নেমপ্লেটে লেখা, তিস্তা চৌধুরী, ফাইনান্সিয়াল ডিটেকটিভ’ – দু হাতের আঙুলগুলো এমনভাবে ফাঁক করে দুদিকে ছড়িয়ে দেখান ভদ্রলোক, যেন ওর হাতের ফাকেই নেমপ্লেটের লেখাগুলো ধরা আছে। তারপর সুর করে বলেন, ‘ অ্যাডভোকেট না, সি এ না, এক্কেবারে ডিটেকটিভ? কী কাণ্ড!’

Financial Detective
Financial Detective

–তিস্তা হাসতে হাসতে বলে, ‘আমাদের কাজটা একরকম গোয়েন্দাগিরিই বলা যায়।মড়ার খুলিকে কথা বলানোর মতো কাজ’।

–ঠিক বুঝলাম না ম্যাডাম, একটু বুঝিয়ে যদি বলেন –  ভদ্রলোকের চোখেমুখে অবিশ্বাস।

–‘কোন ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা হয়েছে আপনার, লোন-এর ব্যাপারে? কত টাকা লোন চাইছেন, ১০ লাখ? নাকি ১৫ লাখ?’ হঠাৎ কথা পালটে তিস্তা জিজ্ঞেস করে।

–ভদ্রলোক কেমন হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন, ‘আপনি জানলেন কী করে !’

তিস্তা গলাটা নামিয়ে সরাসরি ভদ্রলোকের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আমাদের কাছে সব কথা খুলে বললেই সুবিধে। কিন্তু অনেকে বিপদ না বাঁধানো পর্যন্ত মুখ টিপে থাকেন। এই যেমন আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আপনার ব্যালান্স-শিটটা সম্পূর্ণ ভুয়ো’।

–কী যে বলেন। ভুয়ো হতে যাবে কোন দুঃখে? এসব ম্যাডাম আপনি আগ বাড়িয়ে ভেবে নিচ্ছেন।

–না। একদম নিশ্চিত হয়েই বলছি। আপনি খাবার তৈরি করে ক্রেতাদের পরিবেশন করেন। কী, ভুল বলছি না তো?

–ভদ্রলোক ঘাড় নাড়েন। তিস্তা আবার বলতে শুরু করে, ‘আচ্ছা বলুন তো, এই সমস্ত বিরিয়ানি বা কাবাব বা চিলি চিকেন বা মাংস মাছ কাঁচা বাজার, এগুলো একবার রান্না করে বা কিনে ৬ মাস রেখে দেওয়া যায় ফ্রিজে কিংবা স্টোরে’ ?

–‘কী বলছেন ম্যাডাম, বাসি খাবার দিলে খদ্দের মুখের ওপর ছুঁড়ে ফেলে চামড়া গুটিয়ে দেবে না? বাসি-টাসির কারবার এই লাইনে হয় না। একবার বদনাম হলে রক্ষে নেই আর। ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন, ম্যাডাম?’ ভদ্রলোক খানিকটা শিক্ষা দেবার ঢঙে তিস্তাকে বলেন।

–সে আমি বেশ বুঝতে পারছি। কিন্তু আপনার এই হিসেবেই তো আপনি বিক্রি দেখিয়েছেন ৪০ লাখ আর ২০ লাখ টাকার স্টক দেখিয়েছেন। মানে ৬মাসের বেশি বিক্রি স্টকে পড়ে আছে। শুধু সরষের তেল বা চাল-ডাল নিশ্চয় ২০ লাখ টাকা কিনে বোঝাই করে রাখা যায় না? সঙ্গে রান্না করা চিলি চিকেনকেও মমি বানিয়ে রাখতে হয়। এরপরে যদি ওই ৪০ লাখ থেকে আপনার প্রফিট মার্জিন বাদ দিই, তাহলে তো স্টক গিয়ে ঠেকবে অন্তত সাত মাসে। এরপর আরও কথা আছে। এত বিক্রি হওয়া সত্ত্বেও আপনার না হয়েছে ভ্যাট-এর রিটার্ন দেওয়া, না হয়েছে সারভিস ট্যাক্সের। ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্নও দেওয়া নেই। বুঝলেন তো ব্যাপারটা? এইবার বলুন, এই হিসেব ঠিক আছে?

চোয়ালটা ঝুলে পড়ে ভদ্রলোকের। অতশত জানিনা মশাই। ব্যাংকের লোক বলল ১৫ লাখ টাকা লোন পেতে গেলে ২০ লাখ টাকা স্টক দেখাতে হবে। তাইই…

তিস্তা বলে, আপনার ভাগ্য ভালো আমার কাছে আসবার কথা ভেবেছেন। নইলে ব্যাংকের লোক বললে এইসব দেখিয়ে যদি ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন ফাইল করে দিতেন বিপদের আর শেষ থাকতো না।

–‘না ম্যাডাম, এতদিন যা ভুল করার করেছি। এইবার কী কী ট্যাক্স দিতে হবে আমাকে বলুন’। কথাটা বলে কোনোমতে পাশ কাটাতে চান ভদ্রলোক।

–শুনুন। আপনাকে ইনকাম ট্যাক্স তো দিতেই হবে, যদি আপনার আয়, ট্যাক্স দেবার মতো হয়। তাছাড়াও আপনাকে দিতে হবে ভ্যাট বা ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স আর সারভিস ট্যাক্স। ভ্যাট দিতে হবে রাজ্য সরকারকে আর পরিষেবা কর বা সারভিস ট্যাক্স কেন্দ্রীয় সরকারকে। এগুলোই মূল। আরও কিছু ট্যাক্স আছে। সব একসাথে বললে কি আপনার মনে থাকবে?

TAX
Tax

–ধুৎ। হাওয়ায় হাত ঘুরিয়ে কেমন একটা উড়িয়ে দেবার ভঙ্গি করেন ভদ্রলোক।  ভাবুন তো, এতগুলো টাকার বোঝা ঘাড়ে এসে চাপবে।

–পুরো বোঝাটা নাও চাপতে পারে আপনার ঘাড়ে। মুচকি হাসে তিস্তা। মনে মনে বলে, এই যা কাঁধ! ভেঙে পড়ল বলে।

–ট্যাক্স তাহলে দিতে হবে না বলছেন?

–‘তাই বললাম বুঝি’ ? হাঁ হয়ে যায় তিস্তা। আমি তো বললাম, ‘পুরো বোঝাটা আপনার ঘাড়ে নাও চাপতে পারে। আচ্ছা বেশ, বুঝিয়ে বলছি। শুনুন, আপনার রোজগারের ওপর আয়কর দিতে হবে আপনাকেই। একে বলে প্রত্যক্ষ কর বা ডাইরেক্ট ট্যাক্স। যার ট্যাক্স তাকেই দিতে হয়।  আর ভ্যাট বা সারভিস ট্যাক্স হল অ-প্রত্যক্ষ কর বা পরোক্ষ কর। মানে এর বোঝাটা আপনি নামিয়ে দিতে পারবেন আপনার খদ্দেরদের কাঁধে। মানে সেটা আপনি কাস্টমারদের বিলের সঙ্গে যোগ করে ধীরে ধীরে আদায় করে নিতে পারেন’।

–একটা কথা বলব ম্যাডাম ? ব্যাপার হল, এই একজন বলছিল আর কী, ৭,০০০/- না ১২,০০০/-, কত যেন একটা টাকা দিয়ে দিলেই ভ্যাটের ঝামেলা সব মিটে যাবে ? ঠিক তো ?

–না, ঠিক না। আপনি যদি চা বা কেক বিক্রি করতেন, যেমন বলছিলেন শুরুর দিকে, তাহলে আপনি কম্পোসিশন স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ট্যাক্সের টাকাটা গুনতে হতো আপনাকেই।এ জন্য কাস্টমারদের বিলে আপনি ট্যাক্স যোগ করতে পারতেন না।

–অঅঅ… অজান্তেই ভদ্রলোকের গলা থেকে একটা আওয়াজ উঠে আসে। ভয়ানক হতাশ যে উনি বেশ বোঝা যায়।  ‘আর একটু আর একটু ম্যাডাম। একটু খুলে বলুন না, কখন আমি কম্পোসিশন স্কিমের জন্য আবেদন করতে পারি’?

–একটু আগেই বলছিলেন না,বছরে আপনার বিক্রিবাটা ৫০ লাখের মধ্যেই থাকে। কী ঠিক তো ?

–আজ্ঞে ওই আর কী। লোকটা বিগলিত একটা হাসিতে মুখ ভরিয়ে ফেলে। এর মানে বুঝতে কোনোই অসুবিধা হয় না তিস্তার। কাঁচা পয়সার ব্যবসা তো, না দেখালেই বা ধরছে কে।

— দেখুন, আপনি যদি জিনিস কিনে বিক্রি করেন, মানে আপনি যদি রিসেলার হন, তাহলে আপনার ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স হবে একরকম। কম্পোসিশন স্কিম অনুযায়ী। আর আপনি যদি খাবার তৈরি করে বিক্রি করেন তাহলে হবে আর এক রকম। রেগুলার স্কিম অনুযায়ী।

–লোকটা বিরক্ত হয় রীতিমতো। সব তার কাছে হেঁয়ালির মতো লাগে। লাগারই তো কথা। নানান ঘাঁতঘোত আছে আইনের।

–একটু থেমে তিস্তা আবার বলে, ‘ধরে নিন আপনি শুধু কেনাবেচা করেন। খাবার তৈরি করেন না। আগে যেমন বললেন, কেক-টেক বিক্রি করেন। তেমন হলে, বছরে একটা নির্দিষ্ট টাকা কম্পোসিশন স্কিম অনুযায়ী সরকারকে জমা দিয়ে দিলেই হতো’।

–কত ম্যাডাম ? দুটো হাতের তালু শব্দ করে ঘষতে ঘষতে উত্তেজনায় চেয়ার থেকে খানিক উঠেই পড়েন ভদ্রলোক।

–যদি আপনার বিক্রি ৩০ লাখের মধ্যে হয়, তাহলে ৭০০০/- টাকা। আর যদি এর থেকে বেশি হয়, কিন্তু ৫০ লাখ না ছাড়ায়, তবে ১২,০০০/- টাকা। কিংবা বিক্রির ০.২৫ %। যে স্কিমে আপনি যেতে চাইতেন। কিন্তু এসব কেন জিজ্ঞেস করছেন? এসব তো আপনার জন্য নয়?

–না, তা নয়, জেনে নিচ্ছি আর কী। আর, যদি আজ্ঞে আমি ওই বিরিয়ানি টিরিয়ানি তৈরি করি, তাহলে ?

‘আজ্ঞে’ কথাটা শেষ কবে শুনেছে তিস্তা? মনে পড়ল না ওর। এ তো বিনয়ের অবতার দেখা যাচ্ছে। তিস্তা উলটে ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করে, রেস্তরাঁয় বিল কীভাবে বানান, আপনিই বলুন না?

— এইবার ভদ্রলোককে দেখে মনে হয় কবজায় পেয়েছেন সবাইকে। বিজ্ঞ একটা গলায় বলতে শুরু করেন তিনি, ‘ধরুন ম্যাডাম কেউ হাজার টাকার খাবার অর্ডার দিল। দিল তো? তার সঙ্গে ১০০/ টাকা যোগ করলাম আপনার সারভিস চার্জ হিসেবে। তাহলে কত হল? ১১০০/- টাকা। এর ওপর ভ্যাট নিচ্ছি আপনার গিয়ে ১৪.৫ % মানে ১৫৯ টাকা ৫০ পয়সা। তাহলে এইবার কত হল? হল গিয়ে ১২৫৯/- টাকা ৫০ পয়সা। তাই না? এইবার আবার পুরো বিলটার ওপর নিচ্ছি ১৫% সারভিস ট্যাক্স। মানে ১৮৯/- টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে হল আপনার ১৪৪৮/- টাকা ৫০ পয়সা’।

–আর ধরুন মিস্টার… ভদ্রলোককে সম্বোধন করতে গিয়ে তিস্তা খেয়াল করে ওর নামটাই জানা হয় নি এতক্ষণে। তাতে অবশ্য কিছু যায় আসে না। ঘাটতি পূরণ করতে ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন,

–আজ্ঞে, আমার নাম মাখন তোপদার।https://s3.scoopwhoop.com/anj/bill_yum_1/119729057.jpg

–বেশ। মাখনবাবু, ধরুন একজন খাবার প্যাক করিয়ে নিয়ে যাবেন। ওই ১০০০/- টাকারই। তাকে কত বিল দিতে হবে?

–সেম টু সেম ম্যাডাম। কোনো বাড়তি টাকা নিই না আমরা। ১৪৪৮/- টাকা ৫০ পয়সার একটা কড়িও বেশি নেব না।

–হুম। গম্ভীর হয়ে উচ্চারণ করে তিস্তা। মনে হয় কী যেন ভাবছে ও।

–কেন ম্যাডাম? ভুল কিছু বললাম? লোকটা অবাক হয়ে তিস্তার মুখের দিকে তাকায়।

–এই বিলের হিসেবটা শিখলেন কোথা থেকে? তিস্তা ভদ্রলোককে জিগেস করতে মুখ তুলেই দেখে বিতানরা দল বেঁধে ভদ্রলোকের একটু পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে। – কী রে, কিছু বলবি তোরা? জানতে চায় সে।

–না দিদিভাই, আমরা তো হরদম রেস্টুরেন্টে খাই। এই তো ওনার ওখানেও খেয়ে এসেছি কতবার। তাই একটু বুঝে নিতে…

— ভদ্রলোক একবার ঘাড়টা ওদের দিকে ঘুরিয়েই আবার তিস্তার দিকে তাকান। ‘ম্যাডাম, পড়াশোনা বেশি দূর না এগোলে কী হয়, বুদ্ধিতে আমাকে হারাবে, সেই শর্মা এখনো জন্মায়নি। কী করে জানলাম বিল কেমন হবে? সোজা হিসেব।

একদিন ওই রেস্তরাঁর একটা বিল জোগাড় করলাম।ব্যস্‌।কেল্লা ফতে। তবে কিনা একজায়গায় ভুল ছিল ওদের বিলে। সেটা আমি ঠিক করে নিয়েছি’।

–তাই নাকি! অবাক হবার মতো করে বলে তিস্তা। তা, কোথায় ওদের ভুল ছিল মাখনবাবু?

–ম্যাডাম, সারভিস ট্যাক্সটা ওরা কত যেন একটা নিচ্ছিল। অনেক কম। হিসেব করতে ভুল করেছে আর কী। সেটা আমি শুধরে নিয়েছি। সে সব বলতে হবে না আমায়।

ঐন্দ্রিলা সঞ্জয় বিতান, ওরা খেয়াল করে দিদিভাইয়ের ফরসা গালটা লাল হয়ে উঠেছে। কিছু একটা তো গণ্ডগোল হয়েইছে। এমনিতে লোকটা যে সুবিধার নয়, সবাই জানে। ওর রেস্টুরেন্ট নিয়ে নানান বদনাম আছে। কিন্তু আজকের ব্যাপারটা ঠিক আন্দাজ করতে পারছে না ওরা।

তিস্তাকে চুপ করে ভাবতে দেখে ভদ্রলোক আবার বলে ওঠেন, ঠিক করি নি ম্যাডাম?

–না। ঠিক তো করেনই নি। উলটে একের পর এক ভুল করেছেন।

–যেমন যেমন? কেমন অবিশ্বাসীর মতো তাকায় লোকটা। যেন ও নিশ্চিত জানে কোনো ভুল হয়নি।https://s-media-cache-ak0.pinimg.com/736x/39/d5/51/39d55144435415df908c36c650e44122.jpg— মাখনবাবু, ভ্যাট বা সারভিস ট্যাক্সের রেজিস্ট্রেশন না নিয়ে এতদিন ধরে সরকারি টাকা আপনার খরিদ্দারদের থেকে আদায় করা তো একটা জঘন্য অপরাধ। আপনি যে এতদিন হাওয়া খেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেটাই তো আশ্চর্যের। আপনার তো জেলের ঘানি টানার কথা। ট্যাক্স আদায় করতে হলে বিলে ভ্যাট নম্বর আর সারভিস ট্যাক্স নম্বর আলাদা করে লেখা থাকতে হবে। ভ্যাট বা সারভিস ট্যাক্স কত নিচ্ছেন সেটাও আলাদা করে লিখতে হবে।

–সে তো আমি ভেঙে ভেঙে বললামই আপনাকে। মাখনবাবু জানান।

— আপনার আরও ভুল হচ্ছে, যেখানে এ সি-র ব্যবস্থা নেই, সেখানে ক্রেতা বা ভোক্তাদের থেকে সারভিস ট্যাক্স নেওয়া যায় না। যারা বাইরে থেকে খাবার প্যাক করে নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের থেকেও সারভিস ট্যাক্স নেওয়া যাবে না। সারভিস চার্জও নেওয়া যাবে না সেগুলোর ওপর। ভিতরে বসে যারা খাচ্ছেন তাদের কাছ থেকেও এমনকী জোর করে আপনি সারভিস চার্জ নিতে পারেন না আর। সরকার এই ব্যাপারগুলো ইদানীং ক্ল্যারিফাই করেছে।

–কী বলেন ম্যাডাম! আরে ওই ‘রেড চিলি’-ও তো সবার থেকে…

–আপনি কি জানেন, তাদের ওই সব বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনগুলো আছে কি নেই? আপনি কি জানেন ওদের ক্যাটালগে সার্ভিস চার্জের কথা আলাদা করে বলা আছে কি নেই?https://yummraj.files.wordpress.com/2014/10/443.jpg

–না ম্যাডাম, জানি না। কেমন একটা হাঁ হয়ে গেছেন উনি।

–আপনি যতটা সারভিস ট্যাক্স আদায় করেছেন, আপনার রেজিস্ট্রেশন থাকলেও তা আপনি করতে পারতেন না, জানেন সেটা?

ততক্ষণে ঐন্দ্রিলা তিস্তার টেবিলের কাছটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব ঠাণ্ডা মাথার মেয়ে ও। তিস্তাকে বলে, ‘দিদিভাই, একটু বুঝিয়ে বলবে কীভাবে বিলটা হওয়া উচিত। মানে আমরাও তো…’

তিস্তা বলে, দেখ ঐন্দ্রিলা। ধরে নে ‘ব্লু লিলি’-র সারভিস ট্যাক্স আর ভ্যাটের রেজিস্ট্রেশন আছে। তাহলে, যেটা আগে মাখন বাবুকেও বললাম, ওর রেস্তরাঁর বিলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দুটো লেখা থাকতে হবে। প্রতিটা ট্যাক্স আলাদা করে লেখা থাকতে হবে। এইবার যদি কোনো ভদ্রলোক সেখানে খাবার খান আর বিল যদি ওই হাজার টাকাই হয়, তাহলে এখনকার যা নিয়ম, সারভিস চার্জ নেওয়া যাবে শুধু যদি খরিদ্দার খুশি হয়ে সেটা দিতে চান, তবেই। সারভিস চার্জ বিলের ৫ থেকে ১০ শতাংশ হয় সাধারণভাবে। ধর, যদি সারভিস চার্জেস ১০০/- টাকাই হয়, মোট বিল হল ১১০০/- টাকা। এরপর ১৪.৫ % ভ্যাট, মানে ১৫৯.৫০ পয়সা। তাহলে সব মিলিয়ে হল ১২৫৯.৫০ টাকা।

–তা, আমি তো ঠিকই বলছিলাম ম্যাডাম? কঁকিয়ে ওঠেন মাখনবাবু।

–মাখনবাবুর যদি রেজিস্ট্রেশন নেওয়া থাকতো, এই অবধি হিসেব ওর ঠিকই ছিল। অবশ্য সারভিস চার্জ উনি একরকম গায়ের জোরেই এতদিন আদায় করছেন। সেটা এই জানুয়ারি থেকে আর করা যাবে না। এরপর আসছে সারভিস-ট্যাক্স। ওর ছেলে যখন আলাদাভাবে নীচের ব্যবসাটা চালান, যদি সেটার আলাদা ট্রেড-লাইসেন্স থাকে তবে ঠিক কাজ হতো যদি একটা টাকাও সারভিস ট্যাক্স আদায় না করতেন। আবার দোতলায় যে ব্যবসাটা উনি নিজে চালান, সেটার সারভিস ট্যাক্স হবে বিল + সারভিস চার্জ অর্থাৎ ১১০০/- টাকার ৪০% বা ৪৪০/- টাকার ওপর ১৫% হারে। মানে ৬৬/- টাকা।

মন দিয়ে শুনছিল সব্বাই। এবার একসঙ্গেই বলে ওঠে, কেন দিদিভাই? ৬৬/- টাকা কেন? উনি তো ঠিকই বলছিলেন। অন্য রেস্তরাঁটাই হিসেব করতে ভুল করেছে।

–না। ঠিক বলেন নি। দেখ বিতান, রেস্তরাঁয় খাবার বিক্রি হয়, তাই না? এখন এখানে খাবারের দামটা ছাড়াও ঢুকে আছে খাতিরদারির পরিষেবা, পরিবেশনের পরিষেবা এইসবগুলো। এই যে তুই বসতে যেতেই একজন হেসে এগিয়ে এসে চেয়ারটা সরিয়ে ভালোবেসে তোকে বসাচ্ছে, এ কী মূল্যহীন ভাবছিস? খাবারটা বন্ধুদের মধ্যে ভাগ করে দিতে বলছিস। সেটার খরচ নেই ? সবই পরিষেবা।  তার মানে একই জিনিসে ঢুকে আছে জিনিসের দাম আর পরিষেবা। আচ্ছা, এবার, জিনিসের দামের ওপর কোন ধরনের ট্যাক্স হবে বলতো?

সবাই একসঙ্গে বলে, ভ্যাট।

–আর পরিষেবার ওপর কী ট্যাক্স হয়?

সব্বাই আবারও বলে ওঠে, কেন সারভিস ট্যাক্স?

–তাহলে তোরাই বল, ওই ১১০০/- টাকার ওপর পুরোটাতেই কি পরিষেবা কর বা সারভিস ট্যাক্স বসা উচিত?

তাই তো, পুরোটাতে কেনই বা সারভিস ট্যাক্স বসবে? ওতে তো খাবারের দামও ঢুকে আছে? ঠিক কথা। বিতান জিগেস করে, তাহলে কীভাবে জানব পরিষেবা ঠিক কতটুকু?

–আলাদা করে হিসেব রাখলে নিশ্চয় বের করা সম্ভব পরিষেবা কতটুকু। কিন্তু ছোটো ছোটো রেস্তরাঁগুলো তো অত নিখুত ভাবে হিসেব রাখতে পারে না। তাই ওদের সুবিধার জন্য ধরে নেওয়া হয়, ১১০০/- টাকার ৪০% হল পরিষেবা। মানে ৪৪০/- টাকা হল পরিষেবা। তাহলে ৪৪০/- টাকার ১৫% কত হয়, হিসেব কর।

ঐন্দ্রিলা চট করে হিসেব করে বলে ৬৬/- টাকা। তুমি ঠিকই বলেছিলে দিদিভাই।

Service Tax
Service Tax

— ‘বেশ। এই বিলটায় ৬৬/- টাকা হবে পরিষেবা কর। তাহলে ১২৫৯.৫০ এর সঙ্গে আরও ৬৬/- টাকা যোগ করে ফেল দেখি’। তিস্তা ভুলেই যায় মাখনবাবু এখনো অফিসে বসে আছেন। আর মাখনবাবুও ভুলে যান তিনি ব্যবসায়ী। এত মন দিয়ে শুনছেন, তাকেও একজন আর্টিকেল মনে হচ্ছে।

— বিতান বলে ১৩২৫ টাকা ৫০ পয়সা।

–এইটাই বিলের অঙ্ক হওয়া উচিত, বুঝলি। খামোকা উনি বেশি টাকা আদায় করেছেন।

–ঐন্দ্রিলা বলে, দুয়েকটা কথা ছিল দিদিভাই।

–বল না, কী কথা?

— এক নম্বর প্রশ্ন হল, সারভিস ট্যাক্স নেওয়া হল বিল আর সারভিস চার্জের ওপরে। ভ্যাটের টাকাটা যোগ করে তার ওপর সারভিস ট্যাক্স নেওয়া হল না।

–এখন নিয়ম এটাই। সারভিস ট্যাক্স পরিষেবার ওপরই নেওয়া হবে। তাতে অন্য কোনো ট্যাক্স ঢুকে থাকবে না। ঠিক খেয়াল করেছিস। আর কোনো কথা?

সঞ্জয় এতক্ষণ চুপ করেই ছিল। এবার ওর গলার আওয়াজ বের হয়। ‘আচ্ছা দিদিভাই, তুমি বললে ১১০০/- টাকার ৪০% পরিষেবা। কিন্তু সারভিস চার্জ তো নেওয়া হচ্ছে আলাদা করে ১০০/- টাকা। তাহলে সারভিস ট্যাক্স তো ১০০/- টাকার ওপরই হওয়া উচিত’?

–খুব খারাপ যে বলেছিস তা নয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশ হল বিল আর সারভিস চার্জ, এই পুরো টাকাটারই ওপর সারভিস ট্যাক্স নিতে হবে।

ঐন্দ্রিলা বলে, আর একটা প্রশ্ন আছে দিদিভাই। আচ্ছা, যদি ১১০০/- টাকার ৪০% মানে ৪৪০/- টাকা পরিষেবা হয়, তাহলে তো ১১০০/- টাকার ৬০%, মানে বাকি যেটা পড়ে থাকে, অর্থাৎ ৬৬০/- টাকা, হিসেব মতো ভ্যাট তো এই ৬৬০/- টাকার ওপর হওয়া উচিত, তাই না?

খুশিতে চোখ চকচক করে ওঠে তিস্তার। বাহ্‌, খুব ভালো ভেবেছিস তো তুই! দারুণ! ঐন্দ্রিলা, বুঝলি, যখনি হিসেবপত্রের খাতা থেকে ঠিকভাবে বের করা না যায়, কতটা বিক্রি আর কতটা পরিষেবা, তখনই সেটা আগে থেকে দেওয়া একটা ভাগ অনুযায়ী হিসেব করতে হয়। আর সেটার ওপর ট্যাক্স দিতে হয়। এ নিয়ম শুধু যে রেস্তরাঁর জন্য খাটে তা নয়। যেখানেই বিক্রি আর পরিষেবা একই সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই হিসেব থেকে সঠিক ভাবে দুটোকে আলাদা করা না গেলেই, একটা ধরে নেওয়ার ব্যাপার চলে আসে। এটা সারভিস ট্যাক্স এবং ভ্যাট দুটো আইনেই আছে। এটাকে বলে অ্যাবেটমেন্ট। যেহেতু দুটো আইন আলাদা, তাদের অ্যাবেটমেন্টের হার-ও আলাদা। এতে ব্যবসায়ীদেরই লোকসান।

এই যেমন সারভিস ট্যাক্সের নিয়ম অনুযায়ী ৪০% পরিষেবা হলেও ভ্যাট এর আইন অনুযায়ী ১০০% বিলের ওপরই ভ্যাট দিতে হবে। মানে ব্যবসায়ীকে ট্যাক্স দিতে হবে অনেক বেশি। জি এস টি আইনে অবশ্য একজন ব্যবসায়ীকে এই বাড়তি টাকার ট্যাক্স আর দিতে হবে না। সেটা অন্য আর এক দিন বলব তোদের।

মাখনবাবু যে কখন উঠে হাঁটা লাগিয়েছেন তিস্তা খেয়ালই করে নি। হঠাৎ বিতানের গলা শুনে সবার হুঁশ ফিরে আসে। বিতান ভদ্রলোকের পিছনে দৌড়চ্ছে আর চিৎকার করছে,  ‘ও মশাই আরে ও মশাই, শুনছেন, এই যে, আরে আপনার ফিস-টাই তো দিয়ে যান নি…’ । ভদ্রলোক মোটেও শুনতে পাচ্ছেন না। কিন্তু কে জানে কেন ওর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলার গতি এক ধাক্কায় হঠাৎ কেমন অস্বাভাবিক রকমের বেড়ে গেছে।

তথ্যসূত্র :

  • ২০১৭-র জানুয়ারিতে, কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে প্রতিটি হোটেল-রেস্তরাঁকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাতে হবে যে সারভিস চার্জ বাধ্যতামূলক নয়। ভোক্তা পরিষেবায় সন্তুষ্ট হলে তবেই দেবেন।যদি কোনো হোটেল-রেস্তরাঁ এই নির্দেশ অমান্য করে তাহলে ক্রেতা সুরক্ষা আইন ১৯৮৬ মোতাবেক সেই হোটেল বা রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যাবে।
  • ২০১১ সালে রেস্তরাঁর বিলের ওপর সারভিস ট্যাক্স প্রয়োগ করার সময় সরকার জানায়, সারভিস ট্যাক্স শুধুমাত্র সেখানেই প্রয়োগ করা হবে যেখানে বিক্রি এবং পরিষেবা একসঙ্গে আছে এবং তাদের মূল্য আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে না। রেস্তরাঁ থেকে খাবার কিনে নিয়ে যাওয়া হলে সেটা শুধুমাত্র বিক্রি। তার মধ্যে কোনো পরিষেবা নেই। তাই পরিষেবা কর এক্ষেত্রে লাগবে না।
  •  সারভিস ট্যাক্স নোটিফিকেশন ২৪/২০১২, ০৬।০৬।২০১২, অর্থাৎ ২০০৬ সারভিস ট্যাক্স ভ্যালুয়েশন রুলের দ্বিতীয় সংশোধনীর  ২সি ক্লজের ১ নম্বর সিরিয়ালে বলা হয়েছে হোটেল রেস্তরাঁর বিলের ৪০% পরিষেবা হিসেবে ধরা হবে। রুল ২সি এক্সপ্ল্যানেশন ১ ক্লজ ২ তে বলা হয়েছে রেস্তরাঁর বিলের ওপর যে ভ্যাট হিসেব করা হয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে তবেই সারভিস ট্যাক্স বের করতে হবে।
 

6 thoughts on “ফাইনানসিয়াল ডিটেকটিভ – Financial Detective – D R Bhattyachariya

  1. এমন একটি article আমি এই ব্লগ-এ প্রথম থেকে দেখতে চেয়েছিলাম। দীপকরঞ্জন দাদা কে অনেক অনেক ধন্যবাদ । আশা রখেছি উনি এভাবেই পাঠকদের সম্বৃদ্ধ করবেন । অনেক ভালো থাকুন দাদা দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য ।

     
  2. খুব সুন্দর ও সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য ধন্যবাদ। এতোসব কিছু জানাই ছিল না। অন্যান্য ক্ষেত্রের কর বিষয়ক নিয়মাবলিগুলো ও এইভাবে জানালে খুবই উপকৃত হই।

     

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *