প্রোপোজ – ( মুক্ত গদ্যের সারি থেকে ) – কৌশিক মজুমদার

প্রোপোজ

প্রোপোজ

কৌশিক মজুমদার

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি প্রোপোজ ব্যাপারটা যেখানে যাই হোক না কেন বাঙালিদের মধ্যে সবার থেকে আলাদা। বাঙালি কিশোর যে কোন মেয়ের মধ্যেই তাঁর প্রেমিকা খুঁজে পায় আর যাকে পায় তাকে প্রপোজ করে-এ ধারণা ভুল। একজন পুরুষ হয়ে আমি এই প্রচলিত মিথের তীব্র বিরোধিতা করছি। ছেলেদের মনে প্রোপোজের সময় এসব কিচ্ছু কাজ করে না।

কথায় বলে পুরুষ সিংহের ন্যায়, আর সে সিংহ শিকারে বেরিয়ে একদল হরিণ দেখলে একটা কথাই ভাবে-আগে তো ঝাঁপ মারি, যে স্বীকৃত (শিকৃতও বলতে পারেন) তাকেই মানিয়ে গুছিয়ে প্রেমিকা বানিয়ে নেব। দুনিয়া বেদর্দ। শ্বাপদ সংকুল। যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে… এই মর্মে একটা ঘটনা মনে এল।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন জানি না মেয়েদের সংখ্যা বড্ড কম ছিল। আমাদের পাশ করে বেরোনো সিনিয়াররা ক্যাম্পাসে এলেই বলত ” করেছিস কি!! এত সুন্দর সুন্দর সব মেয়ে!! তোদেরই তো বাজার দেখছি…” কি অদ্ভুত ব্যাপার, আমরা কেউ তাদের দেখতে পেতাম না। দেখতে পেলাম পাশ করে বেরোনোর পর…অজস্র সুন্দরী মেয়েরা ক্যাম্পাস আলো করে আছে। জুনিয়ারগুলোর চোখে ন্যাবা। তারা নাকি সেরকম কাউকেই দেখতে পায় না। তবু তারমধ্যেই প্রেম আসত। দুর্দান্ত বেগে।

তখন প্রোপোজ ডে বলে কিছু ছিল না…everyday is a propose day. তবে হ্যাঁ ভ্যালেন্টাইন দিনের আগে এ রোগের প্রকোপ কিছু বাড়ত। আমারই এক জুনিয়ার একবার যা তা করে বসল। তাকে প্রেম করতেই হবে। অথচ কনফিডেন্সের অভাব। অনেক ভেবেচিন্তে সে দেখল যে কোন পরীক্ষায় স্যাম্পল সাইজ যত বাড়বে ততই সাফল্যের সম্ভাবনা। তাই একটি নয়, দুটি হরিণীকে তাগ করে রাখল সে। তারা নাকি আবার পরস্পরের বেস্ট ফ্রেন্ড। এবার চিঠির পালা। প্রায় তিনপাতা লম্বা চিঠি। জীবনানন্দ থেকে জয় গোঁসাই ঝেড়ে তৈরি হয়েছে তার ভাষা। নির্দিষ্ট দিনে একজনকে পাকড়াও করে, ‘আই লাভ ইউ’ বলে, চিঠি হাতে গুঁজে দেওয়া গেল। মেয়েটির বিন্দুমাত্র প্রেমেচ্ছা ছিল না। কিন্তু তা বলে তো অভদ্র হওয়া যায় না…তাই সে বলল “আসলে তুই খুব ভাল ছেলে। দেখতে সুন্দর। ভদ্র। পড়াশুনোতে ভাল। দারুন লিখিস। যে কোন মেয়ে তোর সাথে প্রেম করতে চাইবে। কিন্তু আমার না…আসলে বাবা মা বিয়ে ঠিক করে রেখেছে…” এইটুকু বলে মেয়েটি বুঝতে চাইল কি রিঅ্যাকশন হয়।

ছেলেটি গম্ভীর। চিন্তামগ্ন। তারপর চকিতে কি যেন ভেবে বলল “শোন না, এই যে তুই আমার নামে এত ভাল ভাল কথা বললি, এটা তুই আমার হয়ে তোর বেস্ট ফ্রেন্ডকে বলবি?? আর শোন…” এই বলে চিঠিটি মেয়েটির হাত থেকে নিয়ে, পকেট থেকে একটা হোয়াইটনার বার করে মেয়েটির নাম মুছে, জেলপেন দিয়ে বন্ধুর নাম লিখে বলল –

“সঙ্গে এটাও দিয়ে দিস প্লিজ” !

S Phandis

শিবরাম দত্তাত্রেয় ফাদনিস

পরের গল্প চুম্বন

 

One thought on “প্রোপোজ – ( মুক্ত গদ্যের সারি থেকে ) – কৌশিক মজুমদার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *