Chenab Valley Trek – in the state of Jammu & Kashmir – Samarpita Sen

chenap valley trek

চেনাপ ভ্যলি ট্রেক

সমর্পিতা সেন

সময়ের ঘূর্ণাবর্তে জীবন কে বয়ে নিয়ে চলার সময় কখনও কখনও বিশ্রামের প্রয়োজন। আর আমার কাছে এই বিশ্রাম মানেই পাহাড় জঙ্গলের মাঝে নিজেকে খুঁজে বেড়ানো, প্রকৃতির সাথে অন্তরঙ্গভাবে কিছুদিন কাটানো। এমনই একটি অভিজ্ঞতার কথা আজ সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। মন যখন বাঁধনছাড়া তখন প্রকৃতিই একমাত্র সঙ্গী, যে আদর করে মনখারাপগুলো মুছিয়ে দেয় খুব যত্নে। সেই প্রকৃতি কে কিন্তু হোটেলের বন্ধ ঘরে বসে অনুভব করা যায়না। তাকে পেতে হলে তার আলিঙ্গনে নিজেকে জড়িয়ে দিতে হয়। এই জড়িয়ে যাওয়াতে যেমন রয়েছে সুখ তেমনই দুঃখও। দুঃখ কারণ প্রকৃতি তো অত সহজে ধরা দেয়না। তাকে পেতে হলে কিছু কষ্ট করতেই হবে। আর সেই ছোটো ছোটো কষ্টের মধ্যে দিয়েই আসে সুখের স্পর্শ। এমনই একটি কষ্টার্জিত সুখের কাহিনী আমার চেনাপ ভ্রমণের সাথে জড়িয়ে আছে।

২০১৪ র অগাস্ট মাস, কলকাতা থেকে আমরা ৫ জন রওনা হলাম উত্তরাখন্ডের চেনাপ ভ্যালীর উদ্দেশ্যে, হরিদ্বারে আরও একজনের আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার কথা। যাত্রার শুরুতেই বিঘ্ন ঘটল যখন হাওড়া স্টেশনে এসে জানতে পারলাম ট্রেন ৫ ঘণ্টা লেট আছে। অগত্যা ওয়েটিং রুমে বসে সময়টা কাটানো হল। আর এই দেরির জন্য পরেরদিন দুপুরের পরিবর্তে আমরা হরিদ্বার পৌঁছালাম প্রায় সন্ধ্যেবেলায়। ফলে সেদিনের গঙ্গারতি দেখার সৌভাগ্য আর হলনা। সেদিনের রাতটা কাটানো হল হরিদ্বার এর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে। পরেরদিন সকালের জলখাবার খেয়েই রওনা হলাম পিপালকোটি র পথে ।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

রাস্তায় গাড়ীতে এই ৯ ঘণ্টার যাত্রা ছিল ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের রাস্তায় বাঁকে মনে হছিল গাড়ী বুঝি যেকোনো সময় খাদে পড়ে যেতে পারে।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

বিকেলবেলা পিপালকোটি পৌঁছে রুমে মালপত্র রেখেই ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়লাম আশেপাশের জায়গাগুলো দিনের আলো থাকতে থাকতে দেখে নেওয়ার জন্য। পাশেই খরস্রোতা অলকানন্দার গর্জন, মেঘলা আকাশ, ঝির ঝির বৃষ্টি, সবে মিলিয়ে এক অসীম তৃপ্তি আমাদের ঘিরে রেখেছে।

স্রোতস্বিনী অলকানন্দা ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

এখানে বলে নেওয়া যাক যে পিপালকোটির আগাস ফাউন্ডেশন আমাদের ট্রেকিং এর সমস্ত আয়োজন করে রেখেছিল। ফলে এই যাত্রায় আমরা অনেকটা চিন্তামুক্ত ছিলাম। সেদিন রাতের খাবারের পাট চুকিয়ে যে যে যার যার বিছানায় আশ্রয় নেওয়ার সাথে সাথেই ভালোবাসার ঘুম চোখ জুড়ে চাদর মুড়ি দিল।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

পরেরদিন সকালের জলখাবারের পর্ব সেরে জিনিসপত্র গাড়ীতে তুলে আমরা রওনা হলাম থাইং গ্রামের উদ্দেশ্যে। এখানেও পথে একটি ছোটো দুর্ঘটনা ঘটল। একটা জলপ্রপাতের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ীর ছাদ থেকে কয়েকটা ব্যাগ আলগা হয়ে ছিটকে পড়ল নিচে।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

সেগুলোকে তুলে ভাল করে বেঁধে গাড়ী ছাড়তে আরও কিছুটা সময় নষ্ট হল। এরপর আউলি পার করে একটি জায়গায় আমাদের মালপত্র নামিয়ে গাড়ী বিদায় নিল। সেখানে আমাদের এই যাত্রার গাইড দিলবর সিং আর তার তিনজন সঙ্গী আগে থেকেই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

ছবি : সমর্পিতা সেন

এখান থেকে শুরু হবে পায়ে চলা পথ। কিন্তু সাথে মালপত্র বেশি থাকায় সব জিনিস নেওয়া গেলনা। কিছু জিনিস সেখানেই রেখে একজন গ্রামবাসী কে সেখানে রেখে আমরা এগিয়ে গেলাম। ঠিক হল যে সামনের গ্রাম থেকে ছোট ঘোড়া পাঠানো হবে বাকি মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য।

আমাদের পুরো টীম সাথে গাইড, পোর্টার, আর আগাস ফাউন্ডেশন এর বন্ধুরা। ছবি – মানস চ্যাঁটারজি
আমাদের পুরো টীম সাথে গাইড, পোর্টার, আর আগাস ফাউন্ডেশন এর বন্ধুরা।                                                                                                             ছবি – মানস চ্যাটার্জী

এরপর শুরু হল আমাদের ট্রেকিং। পাহাড়ের গা বেয়ে আমরা চলেছি। আমাদের বাদিকে সুগভীর খাদ। আর সেখান দিয়ে বয়ে চলেছে অলকানন্দা নদী।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

কিছুদুর এগোতেই আমাদের কানে এল ডিনামাইট এর শব্দ। গাইড বললেন যে সামনেই পাহাড় ভেঙ্গে রাস্তা করা হছে কারন ধস নেমে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছিল বর্ষায়। একটা ছোট্ট লোহার ব্রিজ পেরিয়ে আমরা সেই জায়গাটার সামনে এলাম যখন তখন রাস্তা পেরোনোর জন্য সুতোর মতো একটু জায়গা রয়েছে। সেখান দিয়েই বুকে ভর দিয়ে পাহাড়ের দেওয়াল ধরে আস্তে আস্তে অত্যন্ত সন্তর্পণে একে একে আমরা পার হলাম। পা একটু এদিক ওদিক হলেই সোজা খাদে পড়তে হত। যাই হোক এই যাত্রায় ভয় কে জয় করতে সফল হওয়া গেল কিন্তু এবার শুরু হল ঝির ঝির বৃষ্টি। সামনের পাহাড়ি রাস্তা বৃষ্টিতে পিছল হয়ে রইল। আমাদের গতি স্বাভাবিক ভাবেই কমে গেছিল এই পিচ্ছিল রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

এমনসময় আমাদের অতিক্রম করে একজন ভদ্রলোক এগিয়ে আসছিলেন। চলতে চলতেই তার সাথে আলাপ করে জানা গেল তিনি থাইং গ্রামের একমাত্র প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক। রোজ যোশিমথ থেকে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসেন পরাতে আবার বিকেলে নিজের গ্রামে ফিরে যান। সত্যি অদ্ভুত, যে রাস্তা পেরোতে আমাদের সারাদিন লেগে যাচ্ছে সেই রাস্তা ইনি দিনে দুবার অতিক্রম করেন অথচ কোনও ক্লান্তি নেই। কোনও ক্ষোভ নেই এমন কষ্টকর চাকরিতে। সত্যিই মানুষ অভ্যাসের দাস। আর পাহাড় মানুষ কে প্রতিনিয়ত শক্তি জুগিয়ে চলেছে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য।

আমরা যখন থাইং গ্রামে পৌঁছালাম তখন পড়ন্ত বিকেল। দিনের আলো নেভার আগেই দুটো তাবু খাটিয়ে নেওয়া হল। যে জায়গাটায় আমাদের স্থান হল সেটা একটা হেলিপ্যাড।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

তাবু টাঙানো শেষ হতেই ঝুপ করে সন্ধ্যে নেমে গেল। পাশেই একটি স্কুলবাড়ি সেখান থেকেই জলের ব্যাবস্থা করতে হবে। কিন্তু অন্ধকারে সাপের কথা ভেবে সেখানে যাওয়ার সাহস ছিলনা কারুর। দিলবর সিং এর মধ্যেই এক কলসি জল এনে দিয়ে গেছেন। তার এবং তার সঙ্গীদের বাড়ি এই গ্রামেই। তারা যে যে যার যার ঘরে চলে গেছে। আমরা ভেবেছিলাম ওরা আমাদের জন্য রাতের খাবারের ব্যাবস্থা করে দিয়ে যাবে। কিন্তু সে আশায় বালি। শেষে আমি, সায়ন আর শৌভিক মিলে রান্নার তোড়জোড় শুরু করলাম, অনিন্দ, সুপ্রতিমদা, মানসদা, আর ময়ূখ রাতে তাবুতে শোয়ার বাবস্থা করতে লাগল। স্টোভ ধড়িয়ে রান্না বসানো হল আর ওদিকে তখন প্লাস্টিক পেতে বেশ আসর বসে গেছে। শীত সেরম নেই তবে পাশেই একটা খাঁদ সেখান থেকে হাল্কা ঠাণ্ডা হাওয়া এসে বেশ আরাম দিছে। রান্না শেষ করে যখন সবাই খেতে বসব তখন হঠাৎ সামনের দুই পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে চাঁদমামা উঁকি দিচ্ছেন। আমরা সবাই সেই কালো পাহাড়ের বুকে চন্দ্রোদয় হতে দেখলাম মোহমুগ্ধের মতো।

দূরের পাহাড়ে যেখানে মেঘের ঘনঘটা সেখানেই রাতে চাঁদের আবির্ভাব ছবি : সমর্পিতা সেন
দূরের পাহাড়ে যেখানে মেঘের ঘনঘটা সেখানেই রাতে চাঁদের আবির্ভাব                                                                                                                               ছবি : সমর্পিতা সেন

সেই দৃশ্য আজীবন মনে থাকবে, এক বিরল মুহূর্তের মতো। টর্চ নিভিয়ে সেই চাঁদের  আলোতেই আমাদের রাতের খাবার পর্ব সারা হল। তারপর যে যে যার যার তাবুতে সুখ নিদ্রায় গেলাম স্লীপিং ব্যাগ-এর মধ্যে ঢুকে। মোমবাতির আলোয় রাত্রিভোজন শোনা যায় কিন্তু চাঁদের আলয় সেটা যেন আরও বেশি রোম্যান্টিক অনুভূতি।

পরেরদিন সক্কাল সক্কাল উঠে জলখাবারের পর্ব মিটিয়ে আমরা রওনা হলাম ধারা খারাক এর দিকে। আজ সেখানেই রাতে থাকতে হবে। কাল চেনাপ ভ্যালী করে পরশু  আবার আমরা এই গ্রামে ফিরে আসব। সঙ্গে তাই দুদিনের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে বাকি সবকিছু দিলবর সিং-এর বাড়িতে রেখে আমরা যাত্রা শুরু করলাম। পথ শুরু হতেই ফার্নের জঙ্গল, বর্ষায় সে সবুজের রঙ মেখে দাঁড়িয়ে আছে পথের ধারে আর আমাদের গায়ে আলতো ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে।

 ছবি : সমর্পিতা
ছবি : সমর্পিতা সেন

ছোটো ছোটো জলপ্রপাতগুলো বর্ষায় জলে ভরে আছে, আর তাদেরই দুএকটির জল বয়ে চলেছে আমাদের রাস্তার মাঝ দিয়ে। সেই পিছিল পথ পেরিয়ে আমরা এলাম বড় একটা ঝরনার কাছে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার শুরু পথ চলা।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

একটা মোড় বাঁকতেই দূরে নন্দাদেবির তুষারাবৃত শৃঙ্গ নজরে এল। রাস্তায় পেলাম নানা জংলি ফলের গাছ। তাদের দু একটি বেশ সুস্বাদুও বটে। যে রাস্তায় চলেছি সেটি শুধু কয়েকজন গ্রামবাসী ই ব্যবহার করেন, আর বর্ষায় ঝোপ ঝাড় বেড়ে যাওয়ায় সেই রাস্তায় মোটেও সহজে চলার উপায় নেই। একজায়গায় আমরা বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম তখন আমাদের এক পোর্টার তার বাড়ি যা পথের ধারেই পরেছিল, সেখানকার গাছ থেকে ছিঁড়ে আনা আপেল খেতে দিল। খিদে প্রচণ্ড পেয়েছিল তাই হাতে যেন চাঁদ পেলাম আমরা। বিকেল যখন চারটে তখন আমাদের আরও পথ বাকি, কিন্তু পায়ে চলার পথ নেই কোথাও।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

আমি, আনিন্দ আর শৌভিক একটু পিছিয়ে পড়েছিলাম, আমাদের সাথে একজন পোর্টার ছাড়া বাকি সবাই এগিয়ে গেছে। একটা পাথরের সামনে এসে থমকে গেলাম যে এর আগে আর পথ নেই, তাহলে সামনের লোকেরা কি করে গেল। পোর্টারটি আমাদের দেখাল যে সামনে যে পাথরের ঢাল বেয়ে লম্বা লম্বা ঘাস উঠেছে ওগুলো ধরেই পাথরের ওপরে উঠলে তবে পথ পাওয়া যাবে।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

সে রীতিমত রক ক্লাইম্বিং (rock climbing)-এর সমান। যাই হোক, কোনওমতে সেই পাথরে উঠে দেখতে পেলাম আমাদের সঙ্গীরা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের এভাবে আসতে  দেখে ওরা বলল, যে পাথরের সামনে আমরা আটকে ছিলাম তার-ই পিছন দিয়ে বিছুটির জঙ্গল এর মধ্যে দিয়ে ওরা ওপরে এসেছে। শুনে বুঝলাম আমাদের সঙ্গের পোর্টারটি তাড়াতাড়ি করার জন্য আমাদের সহজ কিন্তু দুর্গম রাস্তা দেখিয়েছে। এখন আমরা দাঁড়িয়েছিলাম একটা কাঁটাঘাসের জঙ্গলে যেখানে তাবু ফেলা যাবেনা। তার জন্য আমাদের আরও কিছুটা এগোতে হবে। ইতিমধ্যেই ময়ূখ আর সুপ্রতিমদা বেশ ভয় পেয়ে গেছে, যে পথে আমরা ওপরে উঠেছি সেই পথে পিঠে ব্যাগ নিয়ে নামা অসম্ভব। আর সামনেও গভীর জঙ্গল। এরপর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে কখনও মাকড়সার জাল কখনও গাছের ডাল সরিয়ে সরিয়ে আমরা এগোতে লাগলাম। শেষে যখন প্রায় সন্ধ্যে হয় হয় তখন এমন একটি জায়গায় এলাম যেখানে বুক পর্যন্ত বন্য ঘাস, ইতিমধ্যে বৃষ্টি নেমে গেছে। এখানেই রাতের থাকার তাবু ফেলতে হবে। আমরাতো রীতিমত আপত্তি করলাম যে, এখানে রাতে বন্য জন্তু আসতে পারে, কিন্তু উপায় নেই। পোর্টার আর গাইড মিলে ঘাস কাঁটা শুরু করল। তারপর সেগুলো কে পিটিয়ে সমান করে তারপর তাবু টাঙানো হল। এটা রীতিমত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

ধার খাড়াকে আমাদের ক্যাম্প সাইট। আশেপাশে বুক সমান জঙ্গল
ধারা খাড়াকে আমাদের ক্যাম্প সাইট। আশেপাশে বুক সমান জঙ্গল

রাতে পোর্টারাই খিচুরি রান্না করলেন। তাই খেয়ে যখন তাবুতে শুতে যাচ্ছি, তখন ময়ূখ আর সুপ্রতিমদা বলল যে তারা আর এগোবেনা। এবং তাদের জন্য যেন পরদিন গ্রাম থেকে পোর্টার আনানো হয়। তাদের কাঁধে ব্যাগ দিয়ে ওরা নিচে নেমে যাওয়ার সিধান্ত নিল। বাকিরা ঠিক করল চেনাপ না দেখে ফিরবেনা। সমস্যা ছিল আমার মতামত নিয়ে। দলের একমাত্র মেয়ে আমি। আর ইতিমধ্যে এমন রাস্তায় উঠতে গিয়ে আর এমন জঙ্গলে থাকতে হবে বলে বেশ রেগেই ছিলাম। তাই আমাকে জিজ্ঞেস করা হল আমি কি করব। এক যাত্রায় পৃথক ফল আর কেন হবে। আর এসেছি যখন এতটা তখন শেষ যাত্রা না দেখে ফেরার ইচ্ছেও ছিলনা। তাই আমিও রাজি হলাম যে পরেরদিন আমি চেনাপ যাব। আমার সিধান্তে সবাই বেশ অবাক-ই হয়েছিল। তাহলে আমরা পাঁচজন(আমি, অনিন্দ, শৌভিক, মানসদা আর সায়ন) ঠিক করলাম কাল ব্যাগপত্র তাবুতেই রেখে খালি হাতে ওপরে উঠবো, চেনাপ দেখে আবার সন্ধের মধ্যে নিচে নেমে আসব। সেদিনের রাত যে কিভাবে কেটেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। স্লীপিং ব্যাগে শুয়েও নিচে ঘাসের নরম গদি টের পাচ্ছি। একটু আগেই একটা বিরাট মাকড়সা মারা হল তাবুতে। আরও অনেকরকম পোকামাকড় ঘুরে বেড়াচ্ছে, এদের বেশিরভাগই অত্যন্ত বিষাক্ত। কোনওমতে রাতটা কাটলে হয়।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

পরেরদিন সকালেই ম্যাগি খেয়ে আমরা চারটে জলের বোতল আর কিছু লজেন্স, ড্রাই ফ্রুটস সঙ্গে নিয়ে রওনা হলাম চেনাপের উদ্দেশ্যে। ময়ূখ আর সুপ্রতিমদা কাম্পেই রয়ে গেল। আমাদের সাথে চলল গাইড আর একজন পোর্টার।

চেনাপ এর দিকে রওনা হাওয়ার আগে আমাদের জলখাবার পর্ব ছবি : সমর্পিতা সেন
চেনাপ এর দিকে রওনা হাওয়ার আগে আমাদের জলখাবার পর্ব                                                                                                                                              ছবি : সমর্পিতা সেন

এবারের রাস্তা আরও সঙ্কীর্ণ, রাস্তা কিছুইনা শুধু বড় বড় গাছের মাঝ দিয়ে ডালপালা সরিয়ে জায়গা করে নিয়ে এগিয়ে চলা। কোথাও গাছের ডাল ধরে কিছু বড় বড় পাথর ডিঙ্গোতে হছে। অনেকটা  জুরাসিক পার্কের জঙ্গলের মতো লাগছিল। অনেক জায়গায় পাথরের দেওয়াল রাস্তা আটকে দাড়িয়ে আছে। তাকে জড়িয়ে হাত দিয়ে হাতড়ে হাতড়ে সামনের দিকে এগোন, আর পিছনে বিশাল খাঁদ। কয়েক জায়গায় আমাদের পাথরের খাঁজে পা রেখে রক ক্লাইম্বিং ও করতে হল।

অনেকটা পথ পেড়িয়ে এক টুকরো অবকাশ ছবি : সমর্পিতা সেন
অনেকটা পথ পেড়িয়ে এক টুকরো অবকাশ                                                                                                                                                                             ছবি : সমর্পিতা সেন

আমাদের পক্ষে আর এগোনো সম্ভব নয়। শৌভিক-এর ইতিমধ্যে গোড়ালিতে লেগেছে, ও আর হাঁটতে পারছেনা। সেখানেই বসে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যে জল নিয়ে দিলবর সিং ফিরলে আমরা ফিরে যাব, এবারের মতো আর চেনাপ দেখার সাধ মিটলোনা। সবারই ভীষণ মন খারাপ। প্রায় এক ঘণ্টা পর দেখলাম দুরের পাহাড় বেয়ে খুব তাড়াতাড়ি দিলবর সিং নেমে আসছে। ওই পাহাড় বেয়ে উঠতে হতো ভাবলেও গা শিউরে উঠছে। দিলবর সিং কিন্তু আমাদের মাঝ পথে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাত্র ছিলেননা। তিনি এসে রীতিমত আমাদের অনুরোধ করতে লাগলেন ভ্যালী না দেখে না ফেরার জন্য।  সেখানে নাকি প্রচুর ফুল ফুটে আছে। সেটা না দেখতে পারলে আমাদের ও ভাল লাগছিলনা। শেষে ওনার অনুরোধ আমরা ফেলতে পারলাম না। নিজেদের ও খারাপ লাগছিল এভাবে ফিরে যেতে। তাই শৌভিক কে সেখানেই রেখে আমরা এগোতে লাগলাম। কিন্তু শুরুতেই বাঁধ সাধল একটি বিশাল পাথরের চাই। তার একটি দিক খাড়া উঠে গেছে আর অন্যদিক পঁয়তাল্লিশ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেল এ আমাদের পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে। সেই পাথরের ওপরে উঠে ওই ঢালু দিক বেয়ে নামতে হবে।

দুরের কুয়াশার পিছনে রয়েছে চেনাপ ভ্যালী, আর এই পথে আমাদের উঠতে হবে সেখানে ছবি : সমর্পিতা সেন
দুরের কুয়াশার পিছনে রয়েছে চেনাপ ভ্যালী, আর এই পথে আমাদের উঠতে হবে সেখানে                                                                                                ছবি : সমর্পিতা সেন

দুদিকেই খাদ, আমি প্রথমেই বেঁকে বসলাম যে আমার পক্ষে ওটা বেয়ে নামা সম্ভব নয়, আমার উচ্চতা এখানে প্রধান বাঁধা। তখন দিলবর সিং আর পোর্টারটি পাথরটির ঢালু দিকের গা ঘেঁষে দাঁড়ালেন, তাদের পায়ের পাতার ওপর ভর করে আমি নিচে নেমে এলাম, বাকিরাও এভাবেই নামল। আবার শুরু হল কাদা মাটি আর কাঁটা গাছ সরিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

আমার পথ চলা
আমার পথ চলা

আমার হাতে গ্লাভস ছিল তাই আমি কাঁটা গাছগুলো উপ্রে ফেলছিলাম সবার আগে। আর আমার পিছনে বাকিরা আসছিল মাটিতে ভর দিয়ে। কিছু কিছু জায়াগায় সোজা হয়ে দাঁড়ান পর্যন্ত যাচ্ছেনা, হামাগুড়ি দিয়ে এগতে হছে। অনেক কষ্টে আমরা যখন চেনাপ এ পৌঁছালাম তখন বিকেল পাঁচটা। এখানে এসে কুয়াসা আর ঠাণ্ডা হাওয়া পাওয়া গেল।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

পুরো ভ্যালীটা বিভিন্ন ফ্লরা আর ফণা তে ভরতি, রঙ বেরঙ্গের নানা ফুল। আর দূরে দেখা বদ্রিনাথের গ্লেসিয়ার। আমরা কিছুক্ষণ ছবি তুলে আর সাথের শুকনো খাবার খেয়ে কাটালাম। সত্যি এবার মনে হছিল এত কষ্ট করে যদি এখানে না আসতাম তাহলে অনেক কিছু হারিয়ে ফেলতাম।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন
 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

এবার শুরু হল ফিরে যাওয়া। এতক্ষণে আমাদের আসার পথ বৃষ্টি হয়ে কাদাময় হয়ে গেছে, সেখানে পা সমানে হড়কে যাচ্ছে। আমরা অত্যন্ত সন্তর্পণে নামতে গিয়েও অনেক জায়াগায় হড়কে গিয়ে কাদা মাটিতে পড়ে গেলাম। পোর্টার আর দিলবর সিং আমাদের খুব সাবধানে নামাচ্ছিল যাতে কেউ খাঁদে না পড়ে যাই।

ফেরার পথ ছবি : সমর্পিতা সেন
ফেরার পথ                                                                                                                                                                                                                                   ছবি : সমর্পিতা সেন

নিচে নেমে আমাদের তাবুতে পৌঁছাতে সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে এল। কিন্তু তাবুতে পৌঁছে এবার জায়াগাটা কে দেখে আর আগের রাতের মতো অতটা ভয় করছিলনা। আমরা বেশ বুঝেছিলাম এই রাস্তায় আমাদের আগে কেউ ট্রেকিং করতে আসেনি। এখানে মানুষজন ও আসে কম, তাই পথ এতটা দুর্গম, বলতে গেলে পথের কোনও নিশানই নেই।

ফেরার পথ ছবি : সমর্পিতা সেন
ফেরার পথ                                                                                                                                                                                                                                 ছবি : সমর্পিতা সেন

এই জঙ্গলে একরকমের গাছে একপ্রকার পোকা পাওয়া যায়, যার থেকে নাকি আনেক মারণ রোগের ওষুধ তৈরি হয়। আর সেই পোকা সংগ্রহ করে তা নাকি লাখ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। বর্ষার আগে আগে সেই পোকা সংগ্রহের কাজ শেষ হতেই এই রাস্তায় আসা যাওয়া কমে যায়। তাই পথে নিশানও মিটে যায় বর্ষাতে। এই পথে ট্রেকিং করানোটা গ্রামবাসীদের আর আগাস এর উদ্যোগে। তাহলে গরিব গ্রামবাসীদের কিছুটা আয়ের পথ হয়। আমাদের এটা আগে জানানো হয়নি। তাই প্রথমে রাগ হয়েছিল এমন বিপদজনক পথে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু পড়ে সেটা কেটে গেছিল।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

বিপদ ই যদি না থাকবে তাহলে আর পাহাড় জঙ্গলে আসা কেন। ভালো লাগছিল এই ভেবে যে আমরা শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছি। আর এমন জঙ্গলে রাত্রিবাস খুব একটা মন্দ অভিজ্ঞতা নয়। মনের খুশিতে আজও রাতের রান্নার ভার আমি আর সায়ন-ই নিলাম। শরীরে যেন নতুন জোর ফিরে এসেছে। পরেরদিন আবার নিচে নামা থাইং এর উদ্দেশ্যে।

পরেরদিন আমরা থাইং গ্রামে নেমে এলাম ধারা খারাক থেকে। ওঠার সময় যে পথ যথেষ্ট বেগ দিয়েছিল আমাদের নামার সময় বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায় আরও কষ্ট বাড়ল। একে তো রাস্তা কাদায় পিছিল তারপর বৃষ্টি তে পাহাড়ি মাটি আলগা হয়ে খসে পড়ায় পা হড়কে যাচ্ছে। পিঠে ব্যাগ নিয়ে নামা বেশ কষ্টসাধ্য মনে হছিল। কিন্তু এর-ই তো নাম অ্যাডভেঞ্চার। নামার সময়ও আমরা পাহাড়ি গাছের ফল খেলাম। এই দিন গ্রামে ফিরে এসে তাবুতে বসে বেশ কিছুটা গল্প হল আমাদের। জানতে পারলাম কত কষ্টে এরা জীবন যাপন করে।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

বিকেলে বৃষ্টি নেমে যাওয়ায় রাতের রান্নার জোগাড় যন্ত্র করতে খানিকটা দেরি-ই হয়ে গেল আজ। আজ আমাদের কথায় পোর্টাররা কিছু গাছপালা জড়ো করে ক্যাম্প ফায়ারের আয়োজন করেছিল। এই গভীর জঙ্গলে সে এক দারুণ অনুভূতি।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

পরেরদিন ১৫ই অগাস্ট, স্বাধীনতা দিবস পালন হবে গ্রামের একমাত্র প্রাইমারী স্কুলে।

 ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

স্বাধীনতা দিবসের দিন আমরা স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের  পর সঙ্গে আনা লজেন্স বিতরণ করলাম। আমাদের হাতে ক্যামেরা দেখে ওরাও ছবি তোলার  জন্য খুব উৎসাহী ছিল। এমন পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামেও ওদের সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্যে যে নিয়ম শৃঙ্খলার প্রকাশ পাচ্ছিল তা দেখে আমরা সত্যি-ই মুগ্ধ।

সেদিন-ই আমাদের নিচে নামার কথা। বৃষ্টিতে পাহাড়ের অনেক জায়গায় ছোটো ছোটো ধস নেমেছে। সেগুলো অতিক্রম করেই আমাদের এগোতে হছিল।

এই পথেই আমদের নামতে হবে থাইং গ্রাম থেকে ছবি : সমর্পিতা সেন
এই পথেই আমদের নামতে হবে থাইং গ্রাম থেকে                                                                                                                                                                        ছবি : সমর্পিতা সেন

থমকে গেলাম সেই জায়গায় এসে যেখানে আসার দিন আমরা ডিনামাইট ফাটিয়ে রাস্তা তৈরি হতে দেখেছিলাম। আজ সেখানে রাস্তার কোনও চিহ্নই নেই। শুধু একটা পাইপ ধরে পাহাড়ের গা বেয়ে ঝুলে ঝুলে নিচে নামা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সেখানে যারা রাস্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তারাই আমাদের সাহায্য করলেন ঐভাবে রাস্তা পার হতে। বুকে এক রাশ ভয় নিয়ে আমরা একে একে এই শেষ বাঁধাটাও কাটিয়ে উঠলাম।

এই সেই জায়গা যে খানে বৃষ্টিতে ধ্বস নেমে রাস্তা উধাও ছবি : সমর্পিতা সেন
এই সেই জায়গা যে খানে বৃষ্টিতে ধ্বস নেমে রাস্তা উধাও                                                                                                                                                       ছবি : সমর্পিতা সেন
বৃষ্টিতে ধ্বস নেমে রাস্তা উধাও ছবি : সমর্পিতা সেন
বৃষ্টিতে ধ্বস নেমে রাস্তা উধাও                                                                                                                                                                                                  ছবি : সমর্পিতা সেন

যেখানে প্রথমদিন গাড়ীতে করে আমাদের নামিয়ে দিয়ে গিয়েছিল আজ আগে থেকেই সেখানে আমাদের জন্য গাড়ী অপেক্ষা করছিল। তাতে চরে আমরা প্রথমে এলাম যোশীমঠ, আর সেখান থেকে গাড়ী বদলে পিপালকোটি।

ছবি : সমর্পিতা সেন
ছবি : সমর্পিতা সেন

কিন্তু পরেরদিন পিপালকোটি থেকে হরিদ্বার যাওয়ার মুখে আবার বাঁধা পড়ল। জানতে পারলাম ঋষিকেশের রাস্তায় ধস নামায় হরিদ্বার যাওয়া সম্ভব নয়। অগত্যা আমাদের ঘুর পথে দেরাদুন যেতে হবে, যাতে সময় লাগবে প্রায় ১০ ঘণ্টা। কিন্তু সেদিনের রাতের উপাসনা এক্সপ্রেসে আমাদের টিকিট, তাই এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। এবারেও গঙ্গা দর্শন হলোনা। এই ঘুর পথে আসার সময় আমরা যেমন পেলাম মুসৌরি আর ধানলতির কুয়াসা ঘেরা মনরম দৃশ্য,

বৃষ্টির ঠিক আগে ছবি : সমর্পিতা সেন
বৃষ্টির ঠিক আগে                                                                                                                                                                                                                           ছবি : সমর্পিতা সেন

তেমনি তাড়া থাকার জন্য প্রায় ৮ ঘণ্টা গাড়ী থামানো যায়নি, ফলে পেটে কিল মেরে সঙ্গে যা অবশিষ্ট খাবার ছিল সেগুলই শেষ করতে হল।

এরপরেও আমাদের জন্য অপেক্ষা করেছিল আরেকটা ঝড়। দেরাদুন এ এসে জানতে পারলাম উপাসনা এক্সপ্রেস সেদিনের জন্য বাতিল ফলে আমাদের ফিরতে হবে দুন এক্সপ্রেসে তাও রিসার্ভেশন ছাড়া। তখন বিকল্প কিছু ভাব্বারও সময় নেই। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুন এক্সপ্রেস ছাড়বে। তাই আমরা তাতেই চরে গেলাম সাধারণ টিকিট কেটে। রাতের দিকে টিটি-কে বলে তিনটে সিট পাওয়া গেল বিভিন্ন কামরায় কিন্তু সেদিন আইআরসিটিসি- র স্ট্রাইক থাকায় আমরা খাবার পেলাম না পাক্কা দুইদিন। ভরসা ছিল প্যাকেট কেক, চানাচুর আর জল। একদিন পর যখন কলকাতার মাটিতে পা রাখলাম  মনে হল যেন হাতে স্বর্গ পেলাম।

বাঁধা দিয়ে শুরু আর বাঁধা দিয়েই শেষ তবুও যেন মনে হচ্ছিল যে এরম না হলে আর অ্যাডভেঞ্চার কিসের। কষ্টের মধ্যে দিয়ে যে সুখের প্রাপ্তি হয় তা যে চিরকাল সঙ্গী হয়ে থাকে, আর শত বিপদেও এগিয়ে যেতে সাহস যোগায়। যদিও এবারের অভিযান অনেকেরই পছন্দ হয়নি বেশীমাত্রায় বিপদের জন্য তাও একেবারে আচমকা। তবুও আমার মনে চিরকাল এইবারের যাত্রা দাগ কেটে রাখবে। ভবিষ্যতে আচমকা কোনও বিপদ এলে তাকে এড়িয়ে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় এবারের অভিজ্ঞতা আমায় মার্গ দর্শন করাবে। এরপরেও যদি এমন কোনও অচেনা অজানা জায়গার ডাক আশে ভাববোনা এক মুহূর্ত। কারণ পথই তো পথিকের একমাত্র ঠিকানা।

~ সমর্পিতা সেন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *