GST INPUT TAX CREDIT – Dipak Ranjan Bhattyacharya

GST INPUT TAX CREDIT

Law-বঙ্গ-law-টীকা

তৃতীয় পর্ব

দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য

‘ ওহ, এ-যে ওল্ড ওয়াইন ইন আ নিউ বটল’, একজন টাই আর টুইডের স্যুট-পরা ভারিক্কি চেহারার মেম্বার বলে ওঠেন। বাব্বা, যেন হলঘরে বাজ পড়ল এমন ডাকসাইটে গলা তার। সঙ্গে সঙ্গে দু-একজন, ‘চ্যাটাজ্জিদার সেই একই কথা, দিনে ওয়াইন রাতে ওয়াইন। কী কাণ্ড দেখো তো ম্যাডামের সামনে’!‘আই অবজেক্ট’, গমগম করে বলে ওঠেন ভদ্রলোক, ‘ তোমাদের বুঝিয়ে পারা যায় না! আরে, সোমরস বলো। আমাদের একটা ঐতিহ্য নেই! এ হল দেব-দ্বিজের ব্যাপার।  জানো, পতঞ্জলি মৃতসঞ্জীবনী খুব শিগগির বাজারে আসছে’?

GST INPUT TAX CREDIT

হোক হইহই, হোক মজা। বেশিরভাগের কাছেই আইন এক দরজা-জানলাহীন গোডাউনের মতো, হাওয়াবাতাস সেখানে মোটে খেলে না। অথচ কী-যে মজা, যদি কেউ রায়ের পাতাগুলোতে একবার চোখ বোলায়! অনবদ্য এক-একটা জাজমেন্ট। কোনো গ্রামভারি ব্যাপারই নেই, সহজ সরল যুক্তির কথা।  ইউনিভার্সিটিতে একেএস  একবার বলেছিলেন, তৃষ্ণার্ত একটা ঘোড়াকে জলের কাছে নিয়ে যাওয়া, এইটুকুই শিক্ষকের কাজ! আজ তিস্তা শিক্ষকের ভূমিকায়। এখানকার মানুষগুলো কত মাটির কাছাকাছি। খুব এন্‌জয় করছে তিস্তা নিজেও। চ্যাটাজ্জিদার সোমরস সংক্রান্ত অকাট্য যুক্তিতে হল জুড়ে একটা ফিসফাস আর হাসাহাসি শুরু হয়েছিল। সেটা কমে আসতেই তিস্তা আবার খেয়াল করায়, ‘আমরা কী কথা বলছিলাম মনে আছে তো আপনাদের? ভাবনার সুতোটা জট পাকালে চলবে না কিন্তু। বলছিলাম, কখন ২০লাখের কম বিল হলেও জি এস টি রেজিস্ট্রেশন নিতেই হবে। মনে আছে তো’?

তখন একজন আবার উঠে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করে, ‘নিতে হবে তো বুঝলাম। কেন নিতে হবে? না নিলেই বা কী’? একজন আবার তাকে বসিয়ে দিতে চায়। বলে, ‘এইরকম এলোমেলো প্রশ্ন করে ম্যাডামের সময় নষ্ট করবেন না মিঃ ঘোষ’।

তিস্তা বলে, ‘মিঃ ঘোষ ঠিক কথাই তুলেছেন। রেজিস্ট্রেশনের ভালোমন্দ একটা কিছু তো থাকবে? নইলে নেব কেন’? তারপর প্রশ্ন করেছিলেন যিনি তার দিকে তাকিয়ে বলে,‘মিঃ ঘোষ, এর সার কথা হল, মক্কেলের থেকে ট্যাক্স আদায় করতে পারবেন আপনি নিজে। আর কী ? মাল কেনবার সময় বা কোনো পরিষেবা নেবার সময় যে ট্যাক্সটা আপনি দিয়েছেন, সেই টাকাটার ক্রেডিট নিতেও পারবেন’।

– ‘ক্রেডিট ব্যাপারটা শুনি বটে কিন্তু কখনো মনে হয় বুঝলাম, আবার কখনো কেমন ঝাপসা হয়ে যায়। টার্মটা বেশ গোলমেলে বাপু’, একজন বলে।

-আরে ওই গল্পটা জানো না? আমাদের পিউয়ের মতো একটা ছোটো মেয়ে গো! সবে চাকরিতে ঢুকেছে। ব্যাংকের চাকরি। ম্যানেজার তাকে বললেন, ‘তুমি ক্যাশ ক্রেডিট-টা দেখো’। মেয়েটি তো ঘাড়টাড় নেড়ে কোনোরকমে ম্যানেজ দিয়েছে, কিন্তু ভাবছে, কী আজব কাণ্ড, ক্যাশও, আবার ক্রেডিটও। সব্বনাশ’!

পিউ বলে মেয়েটি সত্যিই ছোটো, খুব বেশি হলে ঐন্দ্রিলার বয়সি। চোখমুখ লাল করে সে বলে, ‘আমি জানি না বুঝি, ক্যাশ ক্রেডিট একটা লোন ফেসিলিটি’? 

–আরে, আমি তো শুধু বলেছি তোর মতো একজন ছোটো মেয়ের কথা। তোর কথা আবার বললাম কখন !

তিস্তা এবার রাশ তুলে নেয় তার হাতে, ‘আপনি একটা জিনিস বিক্রি করে ক্রেতার থেকে ট্যাক্স আদায় করেছেন। অন্যদিকে ওই জিনিসটাই কেনবার সময় মালের দামের ওপর কিছু টাকার ট্যাক্স দিয়েছেন। জি এস টি রেজিস্ট্রেশন থাকলে সরকারকে সরাসরি দিতে হবে শুধু বাড়তি ট্যাক্সটা। মালের দামে যে ট্যাক্স দিয়েছিলেন, তার ক্রেডিট বা ছাড় পাবেন আপনি’।

-ধরুন মিস চৌধুরী, আমাদের এখানে যে ছো-নাচের মুখোশ তৈরি হয় সেগুলো নানান জায়গার মেলাতেই বিক্রি হয়।দশজন ব্যবসায়ীর হাত ঘুরে যদি সেই মুখোশ একেবারে যিনি ঘরে টাঙিয়ে রাখবেন তার কাছে পৌঁছোয়, তবে কীভাবে জি এস টি আইনে কর আদায় করা হবে’? সেক্রেটারি অতনুবাবু জানতে চাইলেন।

-এই কর ধাপে ধাপে আদায় করা হবে। এইমাত্র বলেছি, ২০ লাখ টাকা অবধি আয় হলে দুয়েকটা জায়গা বাদে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে না। আর যে জিনিসটা বিক্রি করব সেটা করমুক্ত হলেও রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে না। ধরে নিচ্ছি আপনার উদাহরণের দশজন ব্যবসায়ীরই কর লাগবে। এইবার মনে রাখবার সুবিধার জন্য ভাবুন, আমাদের বাঁ হাতে আমরা মুখোশটা কিনছি আর ডান হাতে বিক্রি করছি। 

একজন আবার ফোড়ন কাটেন, টাকা খরচের ব্যাপারটা চাঁদ সদাগরের বাঁ হাতে মা মনসার পুজোর মতো হ্যান্ডেল করাই ভালো।

তিস্তা বলতে থাকে, ‘এখন যদি একজন ব্যবসায়ী ৪০০০ টাকায় মুখোশ কিনে কর সমেত বাঁ হাতে ৪২৪০/- টাকা দিয়ে থাকেন ( ৪০০০/-+ ২৪০/-) আর ৫০০০/- টাকায় সেই মুখোশটাই বিক্রি করে কর-সমেত ৫৩০০/- টাকা (৫০০০/-+৩০০/-) ডান হাতে পেয়ে থাকেন, তিনি কত টাকা কর দেবেন, বলুন দেখি’ ?

একজন বলেন, ৫৩০০/- থেকে ৪২৪০/- বাদ দিলে যেটা পড়ে থাকে সেটাই দেব। সিম্পল। 

-‘তাহলে আপনি যে এত কাণ্ড করে কিনলেন, বিক্রি করলেন, আপনার কোনো লাভই থাকবে না’? তিস্তা জিজ্ঞেস করে ভদ্রলোককে। 

তিস্তার প্রশ্নের উত্তরে একজন বলেন, আমার লাভ হচ্ছে ১০০০/- টাকা, কারণ ৪০০০/- টাকার মুখোশ আমি বিক্রি করলাম ৫০০০/- টাকায়।

-আর ট্যাক্স?

– ম্যাডাম, ট্যাক্স হল ৩০০/- টাকা। ভদ্রলোক আমতা আমতা করে উত্তর দেন।

-আপনাকে ৩০০/- টাকাই সরকারের কাছে ট্যাক্স হিসেবে জমা দিতে হবে ? আবার তাকে জিজ্ঞেস করে তিস্তা।

ভদ্রলোক বলেন, তা তো দিতেই হবে ম্যাডাম। কিন্তু একটা জায়গায় জট পেকেছে। আমি যখন কিনেছি তখন তো ২৪০/- টাকা ট্যাক্স দিয়েছি। আবার কি আমাকে ৩০০/- টাকা ট্যাক্স দিতে হবে?

– না। আপনি যার থেকে কিনেছেন, তাকে তো দামের সঙ্গেই আরও ২৪০/- টাকা ট্যাক্স বাবদ দিয়েছেন। এবার যে ৩০০/- টাকা পেলেন, তার থেকে আপনার দেয় হল মাত্র ৬০ টাকা। মানে ৩০০/- টাকা থেকে আপনি যে ২৪০/- টাকা আগে দিয়েছিলেন, সেটা এখন রেখে দিলেন। বা ছাড় নিলেন।

একজন বলেন, তাহলে তো আমার কোনোই খরচ হল না ম্যাম? ২৪০/- টাকা দিলাম যার থেকে নিয়েছিলাম, আর ৬০ টাকা দিলাম সরকারকে। উলটে বিক্রি করে ৩০০/- টাকা তুলেও তো নিলাম। তাই না ম্যাম?

-একদম ঠিক। এটাই তো অ-প্রত্যক্ষ করের মজা। সাধারণভাবে ট্যাক্স বাবদ আপনার কোনো খরচই নেই। আপনার ট্যাক্স আপনি জিনিস বিক্রি করেই তুলে নিচ্ছেন। কিন্তু বিক্রির প্রতিটি ধাপে সরকারের আয় হচ্ছে। আচ্ছা বলুন তো, দশজন ব্যবসায়ীর যখন বিক্রি করা হয়ে যাবে, কোনো ব্যবসায়ীর ঘাড়েই কি করের বোঝা চাপবে?

-না, না, চাপবে না, সবাই মিলে উত্তর দেয়। তখন তিস্তা জানতে চায়, ‘তাহলে সরকারের কাছে যে টাকা জমা হল ট্যাক্স বাবদ, সেটা আসলে দিল কে’?

সেই সৌম্য চেহারার সিনিয়র অ্যাডভোকেট বলেন, একদম শেষের যে ক্রেতা, কর তার ঘাড়ে চাপল। সে যেহেতু জিনিসটা আর বিক্রি করবে না, ট্যাক্সটাও সে অন্যের কাঁধে চাপাতে পারবে না। তাকে নিজেকেই বহন করতে হবে।

তিস্তা বলে, ‘আপনার নামটা বলবেন একটু’?

ভদ্রলোক বলেন, ‘চিত্ত সিং দেও’। একমুহূর্ত কী যেন ভাবে তিস্তা। তারপর সবার কাছে জানতে চায়, ‘মিঃ সিং দেও যা বললেন, তার সঙ্গে আপনারা একমত’?

-হ্যাঁ একমত। একদম ঠিক। চিত্তবাবুর উত্তরটা সবাই পছন্দ করেছে বোঝা গেল।

আর একজন জানতে চান, ‘আচ্ছা, যদি আমি ব্যবসার জন্য কোনো একটা যন্ত্র কিনি, তাতে তো আমাকে জি এস টি দিতে হবে’?

-সে তো বটেই।

-সেই ট্যাক্সটা কি আমি ক্রেডিট নিতে পারব ম্যাম ?

-নিশ্চয়ই পারবেন।

-কিন্তু ম্যাম, হিসেবমতো সেটা তো কাঁচামাল বা ইনপুট নয়। সেটা তো অ্যাসেট? তাহলে কী করে ইনপুট ক্রেডিট পাব ?

-এ আর এক মজা বুঝলেন। যন্ত্রপাতি সত্যিই ইনপুট না কিন্তু তার ট্যাক্সের অংশটা ক্রেডিট পাওয়া যাবে।

-‘তাহলে তো পোয়াবারো! একবার কুমিরের ছানা দেখাবার মতো যন্ত্রপাতির ওপরে দেওয়া জি এস টি-র ক্রেডিট নেব, আবার পুরো খরচটার ওপর ডেপ্রিসিয়েশনও আদায় করব। এ যে ডবল ধামাকা’, এক ছোকরা-মতো উকিল হই হই করে বলে ওঠে।

তিস্তা গল্পের একজন চরিত্রের নাম
তিস্তা

তিস্তা ঘাড় নাড়ে। উঁহু উঁহু, মোটেই না। যে কোনো একটা নেওয়া যাবে।

একজন ওই তরুণকে বলে, ‘সিদ্দিকি, ঠেলা সামলাও। নাকের বদলে নরুন। চাইলে ডেপ্রিসিয়েশন, পেলে ডিপ্রেশন’।

-আচ্ছা ম্যাডাম, আমি একটা মাল কিনেছি কিন্তু বিলটা খুঁজেই পাচ্ছি না। তাহলে কি আমি ক্রেডিটই পাব না?

তিস্তা বলে, নিশ্চয়ই পাবেন। এপ্রিল থেকে পরের মার্চ অব্দি হল আমাদের আর্থিক বছর। সারা বছরের জি এস টি-র হিসেব জমা করতে হবে একটা বার্ষিক রিটার্নে। ধরুন সেটা আপনি সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখে জমা দিয়েছেন। এটা একটা তারিখ। আর একটা তারিখ হল মার্চ মাস শেষ হয়ে তার পরের অক্টোবরের ২০ তারিখ।এর মধ্যে আগের তারিখ কোনটা ? ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই ৩০ তারিখ অবধিই সময় পেতে পারেন আপনি।

-তার মানে বছর শেষ হয়ে যাবার পরও ছ-মাস সময় পাব বিল খুঁজে ট্যাক্সের ছাড় নেবার?

-হ্যাঁ।

-বছরে একটা রিটার্ন দিলেই হয়ে যাবে ম্যাম?

-না। বছরে আপনাকে ৩৭টা রিটার্নও জমা করতে হতে পারে। সেটা পরের দিন বলব আপনাদের। 

– ভালোর দিকটা তো ফলাও করে বলছেন! মন্দের দিকটা বলুন এইবার? সেটাই তো আসল, নয় কি?এক ভদ্রলোক রুক্ষ গলায় কোণের দিক থেকে বলে ওঠেন।

-‘মন্দের দিক তো আছেই। ঢিলেঢালা ব্যবসায়ীদের হাড়ে কাঁপুনি তুলে দেবার মতো কিছু নিয়ম এবার আসতে চলেছে। রেজিস্ট্রেশন না থাকলে এক তো ট্যাক্স আদায় করতেই পারবেন না, উলটে কেনার সময় দেওয়া ট্যাক্সের ছাড়ও পাবেন না। শুধু কি তাই’, এবার সবার দিকে তাকায় তিস্তা, ‘আচ্ছা, আপনাদের পাওনা টাকা মক্কেলের কাছ থেকে এক বছর পরেও পান, এমন যারা আছেন দয়া করে হাত তুলুন প্লিজ’!  

কী কাণ্ড! সমস্ত হল যে হাত উঠিয়ে বসে আছে! সঙ্গে যেন লক্ষ মৌমাছির ভোঁ ভোঁ। একজন তো বলেই ফেলে, ‘কাজ মিটে গেলে মক্কেল সেই যে হাসতে হাসতে চলে যায় ম্যাডাম, খুব ঠেকায় না পড়লে বছর ঘোরবার আগে আর আসে না’। ভদ্রলোকের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে আর একজন আবার বলতে শুরু করেন, ‘যদি-বা ফিরে এল, এমন হাসি হাসি নির্দোষ মুখে টাকাটা বের করবে ম্যাম, যেন ভয়ানক কোনো ব্যস্ততায় আটকে না পড়লে তার মতো সব দিক থেকে ফেয়ার লোক পরের দিনই ফিস-টা দিয়ে যেত’।

তিস্তা সেই রুক্ষ ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বলে, দেখুন দেখি কী জব্দ হবেন তারা জি এস টি এসে গেলে?   তিনমাসের মধ্যে মধ্যে যদি কোনো ব্যবসায়ী আপনার টাকাটা মিটিয়ে না দেন, ওই ব্যবসায়ীকে দেওয়া আপনার বিলের  জি এস টি-অংশের কোনো ক্রেডিটই তিনি পাবেন না! বুঝুন একবার। তারপর পেনাল্টি তো আছেই’।

সেই ভদ্রলোক ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেন তিস্তার কথা। বলেন, ‘আমি ওই ব্যবসায়ী হলে কী করতাম জানেন ম্যাম? স্রেফ জি এস টি-র টাকাটা শোধ করে বিলের টাকাটা ডিউ রেখে দিতাম।  হুঁ হুঁ বাবা, ঘুঘু দেখেছ, ফাঁদ দেখনি!’ এই বলে বেশ একটা বোদ্ধার মতো খি খি করে হাসতে থাকেন।

তিস্তা মজাটা নেয়। তারপর বেশ একটু কায়দা করে পেশ করে, ‘ সরি স্যার, সেটা হচ্ছে না। আপনাকে কড়ায়-গণ্ডায় বিলের টাকা আর ট্যাক্সের টাকা, এই দুটোই তিন মাসের মধ্যে দিয়ে দিতে হবে’।

-‘সরে যাও সরে যাও সরে যাও’, যেন দুহাতে ভিড় কাটিয়ে বাসে উঠছেন, এইভাবে একজন পিছন থেকে একেবারে তিস্তার সামনে এসে হাজির। ‘ওয়ান সিংগল আপিল ম্যাম’, তর্জনী উঁচু করে তুলে ধরে বেশ বুড়ো মতো একজন হাসি মুখে বলে, ‘আমার ক্লায়েন্ট রেডিমেড গারমেন্টের ব্যবসা করে। ৩০০০/- টাকার ওপর যারা কেনাকাটি করে, তাদেরকেই লাঞ্চবক্স বা ওই ধরনের কিছু উপহার দেয়। ঘুস দেওয়া আর-কী। এখন ম্যাম, সেগুলো কিনতেও তো পয়সা লেগেছে, ট্যাক্স লেগেছে। তা, সেই টাকাটা আমার মক্কেল ছাড় পাবে তো’?

ভদ্রলোক বেশ উইটি, ওর ওই সাঁতার কাটার মতো হাত ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে আসাটা রীতিমত নাটকীয়। আর এখন? কথা নেই কিন্তু আঙুল উঁচোনো হাতটা আর মুখের হাসিটা একই ভাবে লেগে আছে নাটকের ফ্রিজ-শটের মতো! তিস্তা বলে, ‘না স্যার। লাঞ্চ-বক্সের ওপর দেওয়া ইনপুট ট্যাক্সের ওপর আপনার মক্কেল কোনো ক্রেডিট পাবেন না’।

-কেন পাবে না ম্যাম? ভদ্রলোক আশ্চর্য হন।

-‘ওটা বিক্রি করলে সরকার ট্যাক্স পেত। সরকার নিজে যখন নিজের ভাগটা উশুল করতে পারল না, আপনার ভাগটাকেই বা কেন নিতে দেবে’, মজা করে বলে তিস্তা।

-অ্যাঁ ! তাহলে ধরুন গিয়ে আগুনে পুড়ে যদি আমার মাল নষ্ট হয়ে যায়? তখনও পাব না?

-না স্যার, ওই একই নিয়ম। পাবেন না।

তিস্তা দেখে ভদ্রলোক কেমন যেন নড়তে-চড়তে ভুলে গেছেন। সে জানতে চায়, ‘ আপনি কীভাবে এসেছেন ? গাড়ি এনেছেন তো ? ফিরবেন কী ভাবে’?

-‘তা এনেছি’। এইবার খানিকটা ধাতস্থ হয়েছেন ভদ্রলোক, মনে হল। তিস্তা আবারও হাসতে হাসতে বলে, ‘ আর একটা খারাপ খবর আপনাকে দেব স্যার, এই গাড়ি কেনবার সময়ে ডিলাররা যে জি এস টি আদায় করে, পেশাদার বা অনেক ব্যবসায়ীরাই কিন্তু এবার থেকে তার ওপরও কোনো ক্রেডিট পাবেন না’।

-বলেন কী! আমাকে যে গরম কড়ায় ফেলে আস্ত সেদ্ধ করে ছাড়বেন দেখি! উনি এ কথা বলতেই কে যেন বলে ওঠে, ভিনিগারে ভালো করে ভেজাতে হবে দাদু, নইলে সহজে সেদ্ধ হবে না।

-তিস্তা এইবার সিরিয়াস থাকে, ‘না না, আপনি যদি গাড়ি কেনাবেচা করেন, ভাড়া খাটান, সরকারকে আরও ট্যাক্স পেতে সাহায্য করেন, তখনই শুধু আপনি ইনপুট ক্রেডিট পাবেন’।

-আদার ব্যাপারীর আবার জাহাজের ব্যবসা। করি-তো ওকালতি, ইনপুট ক্রেডিট পেতে শেষে ড্রাইভারি করতে হবে? কী দিনকাল পড়ল বাপু, এই বলতে বলতেই দাদু যেন হঠাৎ একটা কন্ডাকটর হয়ে যান। বাঁ হাতটা হাওয়াতে দোলাতে দোলাতে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে থাকেন, আর বসার জায়গাটায় পৌঁছেই একটা কন্ডাকটরসুলভ ফুর্তিভরা হাঁক পাড়েন, ‘চল পানসি, অযোধ্যা-পাহাড়’!


Students’ Corner :
  • Generally every registered taxable person shall be entitled to take credit of input tax.
  • Generally “Input” means any goods, other than capital goods, used or intended to be used for making an outward supply in the course or furtherance of business, subject to exceptions.
  • If recipient of service has not paid within 3 months from date of invoice, the amount equal to input tax credit availed along with the interest is added to output liability.
  • Where the registered taxable person has claimed depreciation on the tax component of the cost of capital goods, the input tax credit shall not be allowed on the said tax component.
  • The taxable person is not entitled to input tax credit on invoice/ debit notes after furnishing returns for the month of September of the subsequent financial year furnishing of the relevant annual return, whichever is earlier.
  • input tax credit shall not be available in respect of the Motor vehicle etc except used for taxable supplies of (a) such vehicles or (b) Transportation of passenger or (c) Imparting training on driving, flying, navigating such vehicles or conveyances;(d)  transportation of Goods.   

    ডিসক্লেইমার – কোনো পেশাদারি বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেবার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    তথ্যসূচি –

    • রিভাইস্‌ড মডেল জি এস টি আইন। এফ এ কিউ এবং এম সি কিউ
    • ড্রাফট মডেল সি জি এস টি, এস জি এস টি এবং আই জি এস টি আই, ব্যাকগ্রাউন্ড মেটেরিয়াল অন রিভাইস্‌ড মডেল জি এস টি ল।

 

To the Writter

* indicates required field

 

One thought on “GST INPUT TAX CREDIT – Dipak Ranjan Bhattyacharya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *