Time of Supply of Service – GST, by Dipak Ranjan Bhattyachariya

GST-Supply-Bill-Raising

Law-বঙ্গ-law-টীকা

অষ্টম পর্ব

দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য

আগের দিনের সেই বৃদ্ধ ভদ্রলোক পিছন থেকে হাঁক পেড়ে বললেন, কত ধানে কত চাল, বুঝছ তো বাপু ? আমি চল্লুম এবার বনবাসে। তোমরা কেউ আমাকে আটকিও না… আয়নার চিত্তদা এতক্ষণে ফিরে এসেছেন পাহাড় থেকে, ঘরের মধ্যে মাথা বাড়িয়ে শুনছেন তিস্তার কথা। বৃদ্ধ ভদ্রলোক বেরিয়ে যাবেন কী, চিত্তদা বুকে জড়িয়ে ধরলেন তাকে, ‘আরে সুধীর দা, কতদিন পরে দেখা’।

চিত্তদাকে দরজায় দেখেই কয়েকজন অল্পবয়েসি মেম্বার বলে উঠল, ‘ আরে ! আপনি দাদাগিরিতে এসেছিলেন না’ ? সঙ্গে সঙ্গে বাকিরাও গলা মেলায়, ‘ তাইতো, দেখেছি তো আপনাকে। পাহাড়ে লোহার মাচা বেঁধে অনেকে মিলে কাজ করছে, আর আপনি নিচ থেকে হাতটা মাইকের মতো চোঙা করে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে ডিরেকশন দিচ্ছেন’ ! তিস্তা চিত্তদাকে ভেতরে আসতে বলে। তারপর চিত্তদাকে পরিচয় করিয়ে দেয় সবার সঙ্গে, ‘ আপনারা সবাই চেনেন একে, তবু আমার ইচ্ছে হচ্ছে আজ ওঁর কথা একটু বলতে। চিত্ত দে একজন ছবি আঁকিয়ে এবং ভাস্কর। গোটা একটা পাহাড় কুঁদে উনি পাখির ঝাঁক বানাবেন স্বপ্ন দেখেছিলেন একদিন। তারপর স্থানীয় ছেলেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, তাদের অজন্তা ইলোরা নিয়ে গিয়ে কেভ পেন্টিং বা প্রাচীন ভাস্কর্যের নমুনা দেখানো, সরকারি গ্র্যান্ট জোগাড় করতে জুতোর সুকতলা খইয়ে ফেলা, পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে মাসের পর মাস হাসপাতালে বন্দি হয়ে কাটানো , এইরকম অনেক অনেক গল্প আছে ওঁকে নিয়ে। সেই পাহারটাকে আজ অনেকেই পাখিপাহাড় বলে চেনেন।’

8-Images -rock carving art workshop -2017
পাখী পাহাড়

‘আচ্ছা চিত্তবাবু, আপনি জেলের কয়েদিদের এমনকী যাদের ফাঁসির সাজা হয়েছে তাদেরও আঁকা শেখাতে যান না’, একজন জিজ্ঞেস করল।

‘আপনি কীভাবে জানলেন?’ চিত্তদা জিজ্ঞেস করতেই ভদ্রলোক গলে গেলেন, ‘ওই আর কী দাদাগিরিতেই তো…’

‘হ্যাঁ, আলিপুর জেলে বন্দিদের আঁকা তো শেখাই নিশ্চয়ই, তাদের আমি রক-কার্ভিংও শেখাই।’

জেলের মধ্যেই ?

‘আরে না না, পুলিশ প্রহরায় তারা এই পাখিপাহারে আসে। এখানে ট্রেনিং নেয়।’

চিত্তদাকে নানান কথা জিজ্ঞেস করতে থাকলেন মেম্বাররা। চিত্তদা হাসি মুখে সে-সব কথার উত্তর দিলেন। শেষে বললেন, কাল না হয় ঘুরিয়ে দেখাব পাখিপাহাড়ের আশপাশগুলো।

7-PRISONER'S WORKING ON BOLDER DURING TRAINING 7-PRISONER'S WORKING ON BOLDER DURING TRAINING
7-PRISONER’S WORKING ON BOLDER DURING TRAINING

চিত্তদা ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই তিস্তা পড়ল জি এস টি নিয়ে। ‘আচ্ছা, একটু আগে আমরা কী বিষয়ে কথা বলছিলাম মনে আছে আপনাদের?

হ্যাঁ ম্যাম, বিল কখন লিখতে হবে। একজন চটপট উত্তর দিল।

কিন্তু ম্যাডাম, যারা বিক্রি বাটার মধ্যে নেই, যেমন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, তাদের বেলাতেও কি একই নিয়ম খাটবে ?

না। তাদের জন্য নিয়ম একটু আলাদা হবে। আমি ছড়াতেই লিখতে পারি কি না চেষ্টা করে দেখি। তিস্তা গাছ-কোমর করে শাড়িটা জড়িয়ে নিয়ে চক তুলে নেয় হাতে –

When a bill of service to be raised?

Time of Supply of Service (Section 13 )

১৩ যদি হয় তবে পরিষেবা, মাল না

পরিষেবা যোগানেরও আছে এক সীমানা।

কচ্ছপ কয় বকে আমিও ফেলনাকি ?

GST দিতে জপো শুরুর তারিখটি → earlier of the following

যেই দিন কাটো বিল বলি সেই দিনটা → A,event 1 → date of issue of invoice13(2)(a)

আগে হোক পরে হোক– ৩০ পেরিয়ো না issue of  invoice within 30 ds of provision of service  

খাতাতে লিখেছ কবে, ‘পাইলাম’ – মনে করো → B ,event 2 →

ব্যাংকের বইতে আগে পেলে তাই ধরো   Plz see explanation to ‘Receipt of payment’

‘তার মানে? কাজ শেষ করবার ৩০ দিনের মধ্যে বিল করতে হবে? আবার খাতাতে যদি লিখতে দেরি হয় দু-দিন, আর তার আগেই যদি ব্যাংকে টাকা ঢুকে যায়, তাহলেও ব্যাংকের তারিখটাই নিতে হবে ! কেন ম্যাম?’

‘কেন বুঝতে পারছেন না? ৩০ দিনের মধ্যে বিল করলে কিংবা ব্যাংকের তারিখটা নিলে সরকারের হাতে ট্যাক্সের টাকাটা পৌঁছে যাচ্ছে অনেক তাড়াতাড়ি। আপনার গড়িমসিতে সরকারের যাতে টাকা পেতে না দেরি হয়, তাই এই ব্যবস্থা।’

‘ওরে ওরে, একটা কানা উঁচু অ্যালুমিনিয়ামের বাটি ধরিয়ে পাঁচ মাথার মোড়ে বসিয়ে দে রে, এ যে ভিকিরিরও বাড়া’ –  ভিড় থেকে আওয়াজ ওঠে।

‘আর যদি ৩০ দিনের মধ্যে বিল না ইশ্যু করি?’, একজন জিগ্যেস করতেই তিস্তা আবার লিখতে শুরু করে –

৩০ দিনেও বিল করো নাই বন্ধু

সরকার রেগে ষাঁড় ছুটে আসে অন্ধ

পরিষেবা দাও যবে সেই দিনটাকে ধরো  → A,event 2 → actual dt of prov of service13(2)(b)

খাতায় বা পাস বুকে, হয়ে নাও সড়গড় → B,event 2 → earlier of receipt in books/in bank

এ তিনের আগে যেটা সেই দিনে সাপ্লাই

বেদম হয়েছে সাজা, আগে আগে ট্যাক্স তাই

‘মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেল ম্যাম, কিচ্ছু বুঝলাম না’, অতনুবাবু বলেন।

মিঃ সিংদেও বললেন, ‘বুঝলেন অতনুবাবু, অনেক সময় রাগে অন্ধ হয়ে অনেকের মাথায় খুন চেপে যায় না, যা নয় তাই ভাবে অতিষ্ট করে তোলে, শাস্তি দিতে চায়, আমাদের সরকারের হল সেই রাগি ম্যাচো ইমেজ । দেখেননি পি এম এর ছাতির বহর?’   

মজাই হোক বা শ্লেষই হোক, মিঃ সিংদেও যা বলেছেন তার অনেকটাই ঠিক। আবার একথাও মানতে হবে যে সুযোগ পেলে আমরা অনেকেই ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বেজায় তৃপ্তি পাই।  তিস্তা অতনুবাবুর দিকে তাকিয়ে বলে,  ‘আচ্ছা, ধরুন জুলাইয়ের ১৪ তারিখে এক মক্কেলের হয়ে আপনি রিটার্ন জমা দিয়েছেন। সেই বিলটা আপনি ১৩ই অগস্টে করলেন। ৩০ দিনের মধ্যে।তখন আপনাকে ট্যাক্স দিতে হবে সেপ্টেম্বর মাসে। এইবার ধরুন আপনি বিল করেছেন ১৬ অগস্টে। সেক্ষেত্রে শাস্তি হল এই যে অগস্ট মাসেই আপনাকে ট্যাক্স দিয়ে দিতে হচ্ছে। এক মাস সময় কম পাচ্ছেন আপনি। টাকা পাবার ব্যাপারটা অবশ্য আগের মতোই থাকল, অর্থাৎ  খাতায় লেখা এবং ব্যাংকে জমা পড়ার মধ্যে যেটা আগে ঘটেছে সেই দিনটাকেই নিতে হবে।

এইবার এক ছোকরা ল’ইয়ার তাল ঠোকে, ‘আমি তো দাদা বিলই করব না ভাবছি। দেখি না কী করে!’ তারপর তিস্তার দিকে ঘুরে বলে, ‘ম্যাডাম, অন্যভাবে নেবেন না, জাস্ট ফর অ্যাকাডেমিক ডিসকাশন, যদি বিল না করি কিছু করতে পারবে সরকার’?

তিস্তা বলে, একটা কথা চালু আছে জানেন তো মিঃ ঘোষাল অপরাধি তার প্রমাণ রেখে যাবেই। রিটার্ন জমা দেবার পরে মক্কেলকে যে অ্যাকনলেজমেন্টটা প্রিন্ট করে দেন, একটু ভালো করে নজর করে দেখবেন, তাতে একটা আই পি অ্যাড্রেস দেওয়া আছে। সেখান থেকে সহজেই আপনার হদিশ পাওয়া যাবে। As simple as that ! আইনে অবশ্য নেওয়া হয়েছে অন্য আরেকটা ঘুর-পথ। সেটা কী?’, কথা বলতে বলতেই তিস্তার হাত আবার চলে যায় ব্ল্যাক-বোর্ডে, আর সেখানে গোটা গোটা সুন্দর হরফে লেখা হতে থাকে –

সব যদি বৃথা যায় মোক্ষম চাল হল

গ্রহীতার খাতা থেকে সেই দিন হাঁটকানো → event 3 → dt on which recipient enters service in its books13(2)(c)‘কী সাংঘাতিক ! পিউ বলে মেয়েটি আঁতকে ওঠে। শেষমেশ আমাকে খুঁজতে সরকার আমার মক্কেলকে পর্যন্ত ধাওয়া করবে? তার ক্যাশবুক খুলে মেলাবে কবে তিনি আমাকে টাকা দিয়েছেন কিংবা কবে রিটার্ন জমা দেবার জন্য আমাকে টাকা দিতে হবে লেজারে লিখে রেখেছেন!’

সেই ছেলেটি খুবই মুষড়ে পড়ে। কিন্তু আর একজন চোখ ছোটো করে বলে, ‘ধরুন ম্যাম, সেই গ্রহীতা যদি টাকাটা ক্যাশে দিয়ে থাকেন? মানে তিনি যে আমাকে টাকা দিয়েছেন, তার কোনো প্রমাণই না থাকে?’

এই কথায় আগের সেই ছেলেটির আবার ধরে প্রাণ ফিরে আসে। সে বেশ উৎসুক ভাবে মাথাটা বাড়িয়ে রাখে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে।

তিস্তা বলে, ‘মিঃ কিস্কু ‘গ্রহীতা’ কথাটা নেহাত টাকা দেওয়া না দেওয়ার ওপর আদৌ দাঁড়িয়ে নেই। টাকা দিলেও যা, না দিলেও তাই। বিনা পয়সায় মাল বা পরিষেবা দিলেও জি এস টি দিতে হবে আপনাকে। আচ্ছা, দেখুন তো এই জায়গাটা –Recipient (গ্রহীতা) –Sec 2(93)

গ্রহীতা কে নয় বলো সব্বাই গ্রহীতা

দ্রব্য বা পরিষেবা মূল্য চুকায় যারা(a) → person liable to pay for goods and/or services

আর যদি ফ্রি-তে (free) হয় যার কাছে মাল যায়(b) → to whom goods are delivered or made available

অথবা যে ব্যবহার করে নয় আগলায় (b) → to whom possession/use/availability of goods given

যিনি পরিষেবা নেন কানাকড়ি নাহি দেন(c) → to whom free service is rendered.

মালিক দালাল সবে গ্রহীতাই বনে যান’  includes principal as well agentsকী বলেছিলাম আপনাদের, কী বলেছিলাম? বলেছিলাম না, ‘বেশি খেলে বাড়ে মেদ/ অনাহারে নাই ক্ষেদ’। আমদের মতো বুড়ো ল-প্র্যাক্টিশনারদের আর জায়গা নেই বুঝলেন, না খেয়েই দিন গুজরান করতে হবে এবার থেকে’, সেই হাশিখুশি রোগাপাতলা বয়স্ক অ্যাডভোকেট সংলাপ বলার মতো গলা তুলে রাগ আর অভিমান ফুটিয়ে বলে ওঠেন।

পাশ থেকে কেউ তক্ষুনি জবাব দেয়, তা নয় হল অতীন দা কিন্তু কথাটা তো সত্যজিৎ রায়ের বলেই জানতাম। চুপি চুপি কবে আবার ওনারশিপ চেঞ্জ হল ওটার?

অতীন বাবু ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিলেন, ‘আরে রাখো তোমার সত্যজিৎ’


 

To the Writter

* indicates required field
                                                                                                                                                                   (চলবে)


Students’ Corner:

Section 13.

(2) The time of supply of services shall be the earliest of the following dates, namely:—

(a) the date of issue of invoice by the supplier, if the invoice is issued within the

period prescribed under sub-section (2) of section 31 or the date of receipt of payment,

whichever is earlier; or

(b) the date of provision of service, if the invoice is not issued within the period

prescribed under sub-section (2) of section 31 or the date of receipt of payment,

whichever is earlier; or

(c) the date on which the recipient shows the receipt of services in his books of

account, in a case where the provisions of clause (a) or clause (b) do not apply:

Explanation.––For the purposes of clauses (a) and (b)––

 (ii) “the date of receipt of payment” shall be the date on which the payment

is entered in the books of account of the supplier or the date on which the

payment is credited to his bank account, whichever is earlier.


(93) “recipient” of supply of goods or services or both, means—

(a) where a consideration is payable for the supply of goods or services or

both, the person who is liable to pay that consideration;

(b) where no consideration is payable for the supply of goods, the person

to whom the goods are delivered or made available, or to whom possession or use of the goods is given or made available; and

(c) where no consideration is payable for the supply of a service, the

person to whom the service is rendered,

and any reference to a person to whom a supply is made shall be construed as a

reference to the recipient of the supply and shall include an agent acting as such on

behalf of the recipient in relation to the goods or services or both supplied;


(Only relevant portion)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *