Law-বঙ্গ-law-টীকা-GST TAXABLE PERSON – Dipak Ranjan Bhattyacharya

GST TAXABLE PERSON

Law-বঙ্গ-law-টীকা

দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য

দ্বিতীয় পর্ব

আপনি খুব সুন্দর করে বলেছেন। কিন্তু আপনার দুটো উদাহরণই ছিল আয়কর আইনের। মানে প্রত্যক্ষ করের। সেটা খেয়াল করেন নি তো ? জি এস টি কিন্তু অপ্রত্যক্ষ কর, যাকে বলা হচ্ছে স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড়ো অ-প্রত্যক্ষ কর সংস্কার।

GST TAXABLE PERSON

কোনো জায়গায় বলতে গেলে একটা পাওয়ার-পয়েন্ট প্রেসেন্টেশন থাকবেই তিস্তার কাছে। যে বিষয়েই বলতে হোক। এতে সুবিধা হল বিষয়টা চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে।

আজও সে তাই করল। প্রথমেই একটা ভিস্যুয়াল। কয়েকজন ঋষি কুটিরের দাওয়াতে বসে অতিবৃদ্ধ এক মহর্ষির সঙ্গে যেন কোনো বিষয়ে গভীর আলোচনা করছেন। তিস্তা ধীরে ধীরে তার গল্পের ঝাঁপি খুলে ফেলে।‘একটা গল্প শোনাই আপনাদের। অনেকদিন আগের কথা। ঋষি ভরদ্বাজের পুত্র সুকেশা, শিবিকুমার সত্যকাম, গর্গ গোত্রের সৌর্য্যায়ণী, কোশল দেশের আশ্বলায়ন, বিদর্ভের ভার্গব আর ঋষি কত্যের প্রপৌত্র কবন্ধী, একবার এই ছ’জন ঋষি তাঁদের নানা প্রশ্নের জবাব পেতে একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েন। তাঁরা শুনেছেন ঋষি পিপ্পলাদের কথা। তাঁর কাছে নাকি সব প্রশ্নের উত্তর আছে।ঋষি পিপ্পলাদ, তাঁদের মেধা আর যুক্তিবুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করলেন। শেষে আশ্বলায়নকে ডেকে বললেন, “তুমি যেভাবে প্রশ্ন করছ তাতে তোমার প্রশ্নের উত্তর দেবার কথা নয়। কিন্তু আমি জানি, তর্ক করা তোমার উদ্দেশ্য নয়, জ্ঞানই তোমার লক্ষ্য। বেদ জানো তুমি। তাই ভাবলাম, তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই ঠিক ”…

ল-বঙ্গ-ল-টীকা

হলে যারা ছিলেন তারা কেউ ভাবতেই পারেননি এইভাবে শুরু হবে! বড়ো হলেও সবাই তো আসলে খুব ছোটো! সবাই গল্প শুনতে চায়। ‘ল’ বোঝাতে তিস্তা তাই একটু লবঙ্গলতিকার আশ্রয় নেয়। শ্রোতাদের দিকে তাকিয়ে তিস্তা বুঝতে পারে ওষুধ কিছুটা ধরেছে। একটুর জন্য হলেও এরা ভুলে গেছেন এটা আদতে আইনের ক্লাস। সবার চোখেমুখেই কত আলো! তিস্তা আবার শুরু করে, ‘এই ছবি সামনে রেখে একটা কথাই আপনাদের পৌঁছে দিতে চাই। কথাটা হল, প্রশ্ন করা একটা যোগ্যতা। প্রতিটি প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন বলব, আপনারা চুপ করে থাকবেন না প্লিজ। এটা কোনো ন-মাস ফাঁসি আর দশ-মাস জেলের সাজা শোনানোর হাজতখানা নয়।  মজা করতে করতে হই হই করতে করতে পড়াশোনা করব আমরা, কেমন? একটু সহজ হব। যেখানে যেমন মনে হয় বলব। আমি খুব চেষ্টা করব আমার সাধ্যমতো উত্তর দিতে। এমনও হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন একটা ভাবনা, যা আমি আজ পর্যন্ত ভাবিনি, এক্ষুনি আপনাদের কাছ থেকে জেনে নিলাম’!

-‘ম্যাডাম, যা চলছে না। মক্কেলদের কাছে মুখ দেখানোই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন একটা করে চিঠি নয় এস এম এস, শিগগির জি এস টি-তে রেজিস্ট্রেশন করুন। ১৫ মার্চের মধ্যে করুন। নইলে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। কিন্তু ব্যাপার তো এত সোজা নয় ম্যাম, যে হুট বলতে সব হয়ে যাবে। কত ঝক্কি। হতেই চায় না মোটে। আপনি এই দিকটা নিয়ে একটু বলুন প্লিজ’, একজন সদস্য অনুরোধ করেন।

-আমিও জানি এই তাগাদার কথা। কিন্তু ব্যাপার কী জানেন? এখনো কিন্তু রাজ্যগুলোর জি এস টি বিল-ই পাস হয়নি। যাই হোক যে কথা হচ্ছিল, রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করবেন তা নিশ্চয়ই বলব। তবে জি এস টি-র সঙ্গে প্রথমে একটু আলাপ করে নেবেন না? যেমন, রেজিস্ট্রেশন আদৌ লাগবে কি না, লাগলে কটা লাগবে, কত টাকা বিক্রি বা পরিষেবায় লাগবে, বিক্রির টাকাটা কীভাবে হিসেব করতে হবে, এই সমস্ত টুকিটাকি কথা ? সবটাই কিন্তু খুব কাজের। সেগুলো আপনাদের সবার জানা আছে তো? তাহলে আমি আর বলছি না সেই কথাগুলো।

কত টার্নওভার হলে রেজিস্ট্রেশন নেবেন ?

হলের ভেতরে অনেকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়েন। ‘না ম্যাম। এই আইন একেবারেই নতুন। সত্যি বলতে তেমন কিছু জানি না। আপনি শুরু থেকেই বলুন’।

তিস্তা আবার জিজ্ঞেস করে, ‘ আপনারা কথা দিচ্ছেন তো, যখন যেমন মনে হবে, প্রশ্ন করবেন’?

– সে তো করবই। কথার মাঝে কথা বললে আপনি কী ভাববেন, আপনার কথার রাশ কেটে যাবে কি না, এইসব সাতপাঁচ ভেবে হয়তো চুপ করেই থাকতাম। এখন আপনি যখন অভয় দিয়েছেন…’, সৌম্য চেহারার এক সিনিয়র মেম্বার হাসিমুখে জবাব দেন। একজন তরুণ আবার জিজ্ঞেস করে, ‘জি এস টি কথাটা শুনে আসছি বেশ কিছুদিন হল। এর পুরো কথাটা কী ম্যাডাম’? অন্য একজন চটপট উত্তর দেয়, ‘এটা হল গুডস অ্যান্ড সারভিস ট্যাক্স’। বলে সে তিস্তার দিকে তাকায়, ‘কী ম্যাম, ঠিক বলি নি’?

তিস্তা বলে, ‘একদম ঠিক। শুধু “সারভিস” না বলে “সারভিসেস” বলতে হবে। গুডস অ্যান্ড সারভিসেস ট্যাক্স। আমরা সবাই তো পেশাদার, কোনো কথা বললে একদম ঠিক করে জেনে নিয়ে বলব। তাই না’?

-‘সবাইকেই রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে’? একজন মেম্বার এ-কথা জিজ্ঞেস করতেই আর একজন বলে ওঠেন, ‘না না , আমি জানি, বলছি আপনাকে মিঃ টিমা– টার্নওভার ২০ লাখ টাকা পেরোলে তবেই রেজিস্ট্রেশন নেবার হ্যাপা। নইলে হাওয়া খেয়ে ঘুরে বেড়ান না, কে দেখতে গেছে’!

ভৌগোলিক কারণে জিএসটি হেরফের

তিস্তা সবাইকে শুনিয়ে বলে, ওর সঙ্গে আপনারা একমত তো ?

মনে হল অনেকে ঠিক জানেই না বিষয়টা। কেউ কেউ ওই ২০ লাখের কথাই হয়তো কাগজে পড়েছে কী খবরে শুনেছে। শ্রোতাদের উত্তর দেবার ইচ্ছেও তেমন একটা চোখে পড়ল না। মিঃ টিমা তখন তিস্তাকেই অনুরোধ করেন, ‘ম্যাডাম, আপনিই বলুন না’!

তিস্তা বলে, ২০ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে ব্যবসা যখন গুটিগুটি ২১-এর দিকে চলে, তখনই তার রেজিস্ট্রেশন করানো প্রয়োজন। সে যে এখন আড্যাল্ট, গ্রোন-আপ! আপনাদের বন্ধু একটু আগেই বললেন সেই কথা। কিন্তু আপনি যদি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত-রাজ্যের অধিবাসী হন, বা অন্য কোনো পাহাড়ি রাজ্যের, তখন কী হবে? তাহলে কিন্তু আপনাকে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে ১০ লাখ পেরোলেই।

– সে কী ! যদি, আমার মক্কেল অরুণাচল আসাম মণিপুর (‘দাঁড়ান দাঁড়ান’… ভদ্রলোক চোখ বুজে রীতিমতো মাথায় টোকা মেরে মেরে মনে করে বলতে থাকেন, যেন বাঁটুল দি গ্রেট-এর ভোঁদা)তারপর মেঘালয় মিজোরাম নাগাল্যান্ড (আবার হোঁচট খেলেন আর শেষে মনে করতেও পারলেন!) সিকিম  বা ত্রিপুরাতে ব্যবসা করে, তাহলে ১০ লাখ টাকা পেরিয়ে গেলেই রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে? এ কেমন কথা? মগের মুলুক নাকি?

তখন আর একজন বলেন, তাহলে তো জম্মু-কাশ্মীর উত্তরাখণ্ড আর হিমাচলেও একই চল হবে? কী বলেন মিঃ কিসকু ?

দু-একজন ফুট কাটে, আপনারা কি ভূগোলে লেটার পেয়েছিলেন মশায়? মিঃ কিসকু সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, ‘বাবার বদলির চাকরি হলে সবাই ভূগোল গুলে খেতে শিখে যায়’। হো হো করে একটা হাসি ওঠে হলঘরে।

তিস্তা বলে, ‘আমরা জানলাম ২০ আর ১০এর লক্ষণরেখার কথা। কিন্তু ধরুন,এখানকার একজন ব্যবসায়ীকে মাল পাঠাতে হয় বিহারে। বছরে তার বিক্রি অবশ্য খুব বেশি না। ১৫লাখের মতো। তাকে কি রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে? আপনাদের কী মত’ ?

সব্বাই বলে ওঠে, ‘ না। না। ২০ লাখ তো লিমিট। এর কম বিক্রি হলে রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে না’।

অন্তঃরাজ্যিয় কারণে জিএসটি

তিস্তা হেসে ফেলে। আইন যদি সত্যি এত সরল আর স্বাভাবিক হতো! আগে যিনি বলছিলেন তার দিকে তাকিয়ে এবার সে বলে, ‘ আপনারা ঠিকই ভেবেছেন। ২০ বা ১০ লাখ হল একটা সাধারণ মাপকাঠি। কিন্তু সাধারণ থাকলে অসাধারণ থাকবে না, তা কি হয়? আচ্ছা, অসাধারণটা তবে কী ? সেটা হল, ২০ বা ১০ লাখ হোক বা তার থেকে কমই হোক রেজিস্ট্রেশন আপনাকে নিতেই হবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। কাদের নিতে হবে? আমি একে একে বলে দিচ্ছি।

এক, যারা অন্য রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা করেন। একটু আগেই বলছিলাম না, এখানকার একজন ব্যবসায়ীকে মাল পাঠাতে হয় বিহারে। বছরে তার বিক্রি ১৫লাখের মতো? তাকেও কিন্তু রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে। কেননা সে অন্য রাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা করে। ঠিক আছে?

এবার দু নম্বর হল, যাদের রিভার্স চার্জের জন্য ট্যাক্স দিতে হবে। তিন, যারা হয় উৎসমূলে ট্যাক্স কাটবেন অর্থাৎ টি ডি এস কাটবেন নয়তো ট্যাক্স আদায় করবেন অর্থাৎ টি সি এস নেবেন, তাদের। আর চার নম্বর হল, যারা অন্যের এজেন্ট হয়ে কাজ করবেন।  এরা সবাই অসাধারণ। একটা কথা চুপি চুপি বলে রাখি, লিস্টটা এখানেই কিন্তু শেষ নয়। তবে, এগুলো, শুদ্ধ বাংলায় যাকে বলে, ভেরি ভেরি ইম্পর্টেন্ট! এগুলো মনে রাখলেই আপাতত কাজ চলে যাবে বলে মনে হয়’।

জিএসটি অপ্রত্যক্ষ কর

-‘ট্যাক্স কাটার বিষয়টা তো এখনও আছে ম্যাডাম’, একজন মেম্বার তিস্তার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন,‘মক্কেলের থেকে ধরুন আমি ২০,০০০/- টাকা পাব। দেবার সময় ১০% কেটে আমাকে দেওয়া হল ১৮,০০০/- টাকা। এটা গেল টি ডি এস। আবার দামি গাড়ি কিনতে গেলে শুনেছি গাড়ির দাম তো নেবেই সঙ্গে ট্যাক্সও নেবে। সেটা হল টি সি এস। জি এস টি-তেও এটাই হাল হবে। কিন্তু রিভার্স চার্যটা কী ব্যাপার, একটু বলবেন প্লিজ’?

– আপনি খুব সুন্দর করে বলেছেন। কিন্তু আপনার দুটো উদাহরণই ছিল আয়কর আইনের। মানে প্রত্যক্ষ করের। সেটা খেয়াল করেন নি তো ? জি এস টি কিন্তু অপ্রত্যক্ষ কর, যাকে বলা হচ্ছে স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড়ো অ-প্রত্যক্ষ কর সংস্কার।

– তাই তো, তাই তো! আমার বিল থেকে এতাবৎ ইনকাম ট্যাক্স ডিডাকশনই তো হয়েছে। সরি ম্যাম, একটু গুলিয়ে ফেলেছি।কিন্তু ধরুন আমি পুরুলিয়া মিউনিসিপালিটির কোনো কন্সট্রাকশনের কাজ করেছি। আমি কন্ট্রাক্টর। তখন তো ইনকাম ট্যাক্স আর ভ্যাট, দুটোরই টি ডি এস আমার থেকে কাটা হচ্ছে?

রিভার্স-চার্জ

– এইবার একদম ঠিক বলেছেন। এবার রিভার্স চার্জের কথায় আসি, যেটা আপনি জানতে চাইছিলেন ? এ-হল উলটপুরাণ। ব্যাপারটা যেন এইরকম, দোষ করল দোষী, আর শাস্তি মিলল ভালো মানুষের। এই রিভার্স চার্জের ব্যাপারটা সার্ভিস ট্যাক্সে কিন্তু এখনও চালু আছে।

-উঁহু, ক্লিয়ার হচ্ছে না ম্যাম, এইসব কন্সটিপেটেড আইন-কানুন নিয়ে মহা মুশকিল। কিছুতেই পরিষ্কার হতে চায় না। আপনি আর একটু ইলাবরেট করুন। এক মেম্বার মুখটা করুণ করে বলেন।

– আপনি একটা কোম্পানির ডিরেক্টর। মিটিং অ্যাটেন্ড করা বাবদ বা অন্য কোনো পেশাদার পরিষেবা দেবার জন্য কোম্পানির থেকে আপনি টাকা পেলেন। আপনারই সারভিস ট্যাক্স দেবার কথা। কিন্তু এখানে উলটে আপনার কোম্পানিকেই সারভিস ট্যাক্স গুনতে হবে রিভার্স চার্জে। এই হল ব্যাপার।

– ‘ওঃ। বুঝেছি’, অজান্তেই মুখটা একটা রসগোল্লার মতো ফাঁক করে ফেলেন ভদ্রলোক। বিড়বিড় করে বলতে থাকেন, ‘আমি সারভিস দিচ্ছি। আমি টাকা পাচ্ছি, আমারই সারভিস ট্যাক্স দেবার কথা। অথচ সারভিস ট্যাক্স দিচ্ছে কে?  কোম্পানি। তাই এটা রিভার্স চার্জ’, ভদ্রলোক পড়া মুখস্ত করবার মতো ডান হাতের আঙুল বাঁ হাতে টোকা দিয়ে দিয়ে বলতে থাকেন। কনভেন্ট-স্কুলে-পড়া মেয়েরা যেমন হাতে টোকা মেরে মেরে কথা বলে, অনেকটা তেমন ক’রে।

কেন রিভার্স-চার্জ ?

– ম্যাডাম, এক রকম ট্যাক্স নেবার ব্যবস্থা থাকলে কি কারো কোনো ক্ষতি হতো? রিভার্স চার্জের দরকারটা কী? বিরক্ত হয়ে অন্য একজন জিগেস করেন।

http://taxguru.in/wp-content/uploads/2013/06/WCT-3.jpg
রিভার্স চার্জ

তিস্তা বলে, ‘সারভিস যিনি দিচ্ছেন তিনি ছোটো ব্যবসায়ী হলে তাকে তো আর রেজিস্ট্রেশন নিতে হয় না। মাঝখান থেকে সরকারের আয় কমে যায়।আপনি একটা মাল আনিয়েছেন ট্রান্সপোর্টে, তাকে টাকায় বিল মিটিয়েছেন। সে তো হিসেবের খাতায় নাও দেখাতে পারে তার এই রোজগারটা? তার রোজগারের বেশিটাই হয়তো ব্যাংকে ঢুকছে না। তাই সরকারের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের অনেক লোকসান, তাই না? ছোটোকে ধরা শক্ত। তাহলে বড়োকে ধরো। বড়দা সরকারকে ট্যাক্স বুঝিয়ে দিক, তারপর সে ছোটোর সঙ্গে বুঝে নিক না নিজেদের পাওনাগণ্ডা! সরকারের ভাবটা বোধহয় এইরকম। মনে হয় এখান থেকেই রিভার্স-চার্জের আইডিয়া’।

পারচেস ট্যাক্স

– ম্যাডাম, তাহলে এখন যেমন সারভিস ট্যাক্সে চলছে, ডিটো তেমনই জি এস টি-তেও হবে, তাই তো? এই রিভার্স চার্জের ব্যাপারটা?

– একটু আলাদা হবে। জি এস টি-তে শুধু সার্ভিসের বেলায় নয়, মাল বিক্রির ক্ষেত্রেও রিভার্স চার্যের নিয়মটা খাটবে।

– সে কী! বিক্রিতেও রিভার্স চার্জ! এ তো একেবারে নতুন!

– একেবারেই কি নতুন? ছদ্মবেশে কি আজও নেই এই ধরনের ট্যাক্স ? ধরুন, রেজিস্ট্রেশন নেই, এমন কারো থেকে মাল কিনলে যিনি কিনছেন তাকেই কি দিতে হয় না পারচেস ট্যাক্স? একবার ভেবে দেখুন তো? তিস্তা বলে।

– ‘ ওহ, এ-যে ওল্ড ওয়াইন ইন আ নিউ বটল’, একজন টাই আর টুইডের স্যুট-পরা ভারিক্কি চেহারার মেম্বার বলে ওঠেন। বাব্বা, যেন হলঘরে বাজ পড়ল এমন ডাকসাইটে গলা তার। সঙ্গে সঙ্গে দু-একজন, ‘চ্যাটাজ্জিদার সেই একই কথা, দিনে ওয়াইন রাতে ওয়াইন। কী কাণ্ড দেখো তো ম্যাডামের সামনে’!‘আই অবজেক্ট’, গমগম করে বলে ওঠেন ভদ্রলোক, ‘ তোমাদের বুঝিয়ে পারা যায় না! আরে, সোমরস বলো। আমাদের একটা ঐতিহ্য নেই! এ হল দেব-দ্বিজের ব্যাপার।  জানো, পতঞ্জলি মৃতসঞ্জীবনী খুব শিগগির বাজারে আসছে’?


Students’ Corner :
  • TAXABLE PERSON Threshold-based liability to register:

(a)            Aggregate turnover exceeding  20 lacs in normal cases;

(b)            Aggregate turnover exceeding  10 lacs in Arunachal Pradesh, Assam, Meghalaya,Manipur, Mizoram,Nagaland, Tripura, Sikkim, Jammu & Kashmir, Himachal Pradesh and Uttarakhand. 

  • The following persons shall be taxable persons irrespective of the threshold /value of aggregate turnover(only the relevant portion mentioned): (Refer Para 6 of Schedule V)

(a) Persons making any inter-State supply;(c) Persons under reverse charge mechanism; (f) person required to deduct tax under Section 46 would be liable to be registered separately even if a registration is already obtained by them, including the following, Central or State Government Department; or Local authority; or Governmental agency etc (g) Persons required to collect tax etc.


ডিসক্লেইমার – কোনো পেশাদারি বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেবার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূচি –
  • রিভাইস্‌ড মডেল জি এস টি আইন। এফ এ কিউ এবং এম সি কিউ
  • ড্রাফট মডেল সি জি এস টি, এস জি এস টি এবং আই জি এস টি আই, ব্যাকগ্রাউন্ড মেটেরিয়াল অন রিভাইস্‌ড মডেল জি এস টি ল।
  • *বিশেষ ক’টি রাজ্য এবং ক্লজ ৪এর ক্লজ জি, আরটিকেল ২৭৯এ, ভারতীয় সংবিধানে বলা রাজ্যগুলিকে জিএসটি রেজিস্ট্রেশন নিতে হবে ১০লাখ পেরোলেই।

 

To the Writter

* indicates required field

 

One thought on “Law-বঙ্গ-law-টীকা-GST TAXABLE PERSON – Dipak Ranjan Bhattyacharya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *